Gig workers

৩১ ডিসেম্বর ঘরের কাছে মিলবে না কোন ডেলিভারি, বনধের ডাক দিলেন গিগ কর্মীরা

ডেলিভারি কর্মীদের অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে শেষ মুহূর্তের ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে তাঁদের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় কাজ করানো হলেও ন্যায্য পারিশ্রমিক মিলছে না। কাজের পরিবেশ যেমন নিরাপদ নয়, তেমনই সামাজিক সুরক্ষা প্রায় নেই বললেই চলে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:১৮

বছরের শেষে ফেস্টিভ্যাল মুডে শহরবাসী। তার সঙ্গে বেড়েছে কেনাকাটার ধুম। এখন অনলাইনে অর্ডার দিলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে জিনিস দরজায়। তাতেই অভ্যস্ত শহরবাসী। কিন্তু এ বছরের শেষ দিনে সেই ছক ভাঙতে চলেছে। কারণ ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে বনধের ডাক দিয়েছেন ডেলিভারি ও গিগ কর্মীরা। ফলে সুইগি, জ্যোমাটো, জেপ্টো, ব্লিঙ্কিট, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট -সহ একাধিক ই - কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।

ডেলিভারি কর্মীদের অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে শেষ মুহূর্তের ডেলিভারি সামলাতে গিয়ে তাঁদের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় কাজ করানো হলেও ন্যায্য পারিশ্রমিক মিলছে না। কাজের পরিবেশ যেমন নিরাপদ নয়, তেমনই সামাজিক সুরক্ষা প্রায় নেই বললেই চলে। এই অবস্থার প্রতিবাদেই বনধের পথে হাঁটছেন কর্মীরা। সূত্রের খবর, ২৫ ডিসেম্বরের তুলনায় ৩১ ডিসেম্বর আরও জোরদার আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তেলঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কারস ইউনিয়ন ও ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাপ বেস ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, উৎসবের পিক আওয়ারে ডেলিভারি কর্মীরাই সিস্টেমের শিরদাঁড়া। অথচ সেই সময়েই তাঁদের উপর বাড়তি চাপ দেওয়া হয়। অযৌক্তিক টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে অনেক সময় জীবন শেষ হয়ে যায়। আয় কমছে, অথচ কাজের চাপ বাড়ছে। সামান্য অভিযোগ বা টার্গেট পূরণ না হলেই আইডি ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে রাতারাতি কাজ হারাচ্ছেন বহু কর্মী।

বিক্ষোভরত কর্মীদের মূল দাবি একটাই, স্বচ্ছ ও নায্য বেতন কাঠামো। বিশেষ করে ১০ মিনিট ডেলিভারি পরিষেবা প্রত্যাহারের দাবি ক্রমশই জোরালো হচ্ছ। তাঁদের বক্তব্য, দ্রুত ডেলিভারির চাপেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি আইডি ব্লকিং ও অযৌক্তিক জরিমানার নিয়ম তুলে নেওয়ার দাবিও উঠেছে। কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক সেফটি গিয়ার, নিশ্চিত কাজের সুযোগ ও কর্মক্ষেত্রে সম্মান দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, গ্রাহকদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডেলিভারি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, গ্রাহকরা যেন তাঁদের “মানুষ হিসেবে” ব্যবহার করেন- এই সচেতনতা দরকার। নির্দিষ্ট কাজের সময়, বাধ্যতামূলক বিশ্রামের সুযোগ, টেকনিক্যাল সাপোর্ট, চাকরির নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্য বিমা, দুর্ঘটনা কভারেজও পেনশনের মতো দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে সরকারকে হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শুধু কর্পোরেট প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর না করে গিগ কর্মীদের অধিকার রক্ষায় স্পষ্ট নীতি দরকার। সব মিলিয়ে উৎসবের মরশুমে অনলাইন অর্ডার নির্ভর শহুরে জীবনে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার বড়দিন বা নিউ ইয়ারে দরজায় কড়া নাড়বে কি না ডেলিভারি—তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই বনধের গতিপ্রকৃতির উপর।


Share