Road Safety

সড়ক নিরাপত্তায় জোর দিল কেন্দ্রীয় সরকার, প্রতিটি গাড়িতে বসবে রেডিও, চলতি বছরেই শেষে জারি হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

চলতি বছরের শেষের দিকে এই প্রযুক্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর একটি অংশ গ্রাহকদের বহন করতে হবে। তবে প্রতি গাড়িতে খরচ কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকড়ী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:৫২

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। এ বার সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিটি গাড়িতে একটি করে ডিভাইস বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই ডিভাইসটি ৩০ গিগাহার্টজ-এর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত হবে। সামনে কোনও গাড়ি থাকলে পিছনে থাকা গাড়ির চালককে ওই ডিভাইসটি সতর্ক করবে। এর জেরে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো যাবে বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই ৩০ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে টেলিকম মন্ত্রক।

জানা গিয়েছ, ‘যানবাহন-থেকে-যানবাহন’ প্রযুক্তি মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর না করে আগে এবং পিছনে থাকা গাড়িগুলি একে অপরের সঙ্গে রিয়েলটাইম তথ্য আদানপ্রদান করতে পারবে। প্রতিটি গাড়িতে একটি অনবোর্ড ইউনিট বসানো হবে। এই অনবোর্ড ইউনিটগুলি মূলত একটি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস। যার মাধ্যমে গাড়ির গতি, অবস্থান, ত্বরণ ও ব্রেক সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিক ভাবে অন্য যানবাহনের সঙ্গে ভাগ করা যাবে।

এই প্রযুক্তি বিশেষ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ রুখে দিতে সক্ষম। এ ছাড়াও, ঘন কুয়াশায় একাধিক গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ কমানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে এই ডিভাইস। এই ডিভাইস গাড়ি চালানোর সময় চালকদের চারদিক থেকে সচেতন করবে এবং আশপাশের যানবাহন সম্পর্কে সতর্ক করবে। গত ২০২৪ সালে ভারতে প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মোটরবাইক চালক। দেশের উদ্বেগজনক সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এমনই উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রক।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকড়ী মন্ত্রকের পরামর্শদাতা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মূলত সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কীভাবে কমানো যায় তা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গডকড়ী পরামর্শদাতা কমিটির সদস্যদের অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন নিজের জেলার রাজ্য প্রশাসনকে নিয়মিত সাংসদদের সড়ক নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক আয়োজনের গুরুত্ব বোঝান। এই বৈঠকে জেলাশাসক, পুলিশ, পূর্ত দফতরের এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকা জরুরি বলেও তিনি জানান।

এ ছাড়াও, দুর্ঘটনাপ্রবণ ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করে সংশোধন, কিছু জাতীয় সড়কের প্রস্থ বাড়ানো, হাইওয়ের ধারে ট্রমা কেয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় মৃতদের ক্ষতিপূরণ বাড়ানো, বেহাল সড়কগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত সেগুলি মেরামতির ব্যবস্থা এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্য সড়ক নিয়ে সমন্বয় রাখার বিষয়েও বৈঠকে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকড়ী জানান, “এই প্রকল্প চূড়ান্ত করার সময় সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” জানা গিয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে এই প্রযুক্তির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর একটি অংশ গ্রাহকদের বহন করতে হবে। তবে প্রতি গাড়িতে খরচ কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।


Share