Special Intensive Rivision

১৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন প্রায় ১২ লক্ষ, দেড় কোটির বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করবে নির্বাচন কমিশন

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বড়সড় গড়মিল। ১৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন প্রায় ১২ লক্ষ ভোটার। বাবার নামসহ নানা অসঙ্গতিতে এক কোটি ৬৭ লক্ষ ভোটারের তথ্য ফের যাচাই করবে নির্বাচন কমিশন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:১০

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিপুল তথ্যগত গড়মিলেরর চিত্র সামনে এল। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ১৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন প্রায় ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন ভোটার। বাবার নাম বা অভিভাবকের তথ্যে অসঙ্গতির জেরে এ বার রাজ্যের মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রায় ৮৫ লক্ষ ভোটারের বাবার নামে গলদ রয়েছে। কোথাও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় এক নাম থাকলেও ২০২৫ সালের এনরোলে অন্য নাম পাওয়া যাচ্ছে। আবার সাড়ে তেরো লক্ষের বেশি ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম কখনও বাবা, কখনও মা হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। প্রজেনি ম্যাপিংয়ের সময় এই ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়াও দেখা গিয়েছে, প্রায় ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জন ভোটারের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ছয়জন পর্যন্ত সন্তান দেখানো হয়েছে। আবার প্রায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ১৫২ জন ভোটারের বয়স তাঁদের ঠাকুরদার বয়সের তুলনায় ৪০ বছরের কম যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মূলত যেসব ভোটারের তথ্যে ন্যূনতম সংশয় রয়েছে, তাঁদের তথ্য যাচাই করা হবে। সেই কারণেই বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানির জন্যও ডাকা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও কমিশন সাত দফার যাচাই প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষের পর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই এই অতিরিক্ত যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর বা তার কম হওয়ার মতো অসঙ্গতিই এই নতুন যাচাই প্রক্রিয়ার মূল কারণ বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই যাচাইয়ের মাধ্যমে ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল ও নিশ্ছিদ্র করে তোলা হবে।


Share