Right to Information Act

‘সাধারণ মানুষের কৌতুহল মেটানোর আইনে পরিণত হয়েছে’, তথ্যের অধিকার আইন নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার

সমীক্ষা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, খসড়া সিদ্ধান্ত বা অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কায় সরকারি আধিকারিকরা খোলাখুলি মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করছেন। এর ফলে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই তথ্যের অধিকার আইন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:১২

তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই কেন্দ্রীয় সরকার নতুন করে তদন্ত করে দেখতে চলেছে। বৃহস্পতিবার লোকসভায় পেশ হওয়া অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে এমনই প্রস্তাবের আভাস মিলেছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, গোপন রিপোর্ট, খসড়া পর্যবেক্ষণ অথবা কেন্দ্রীয় সরকারের গোপন আলোচনা জনসমক্ষে প্রকাশ না করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে তথ্যের অধিকার আইন চালু হয়েছিল। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল। তবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আইন অনেক ক্ষেত্রে কেবল সাধারণ কৌতূহল মেটানোর উপকরণে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, সরকারি কাজকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আরটিআই ব্যবহার করা উচিত নয়। সেই কারণেই কিছু নথিকে আরটিআই আইনের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, খসড়া সিদ্ধান্ত বা অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কায় সরকারি আধিকারিকরা খোলাখুলি মত প্রকাশে সংকোচ বোধ করছেন। এর ফলে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই তথ্যের অধিকার আইন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, আইন সংশোধিত হলে শুধুমাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আরটিআই-এর মাধ্যমে জানানো হবে, বাকি নথি গোপন রাখা হতে পারে।

রিপোর্টে আন্তর্জাতিক উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬৬ সালে আমেরিকা এবং ২০০০ সালে ব্রিটেনে তথ্যের অধিকার আইন চালু হলেও, পরে এই আইন নিয়ে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গোপন রাখতে না পারলে, আপনি সরকার চালাতে পারবেন না।’ ২০১২-১৩ সালেও হাউস অফ কমন্সের জাস্টিস কমিটি একই সুরে আইনটি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে সেই প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগের কিছু বিষয় গোপন রাখা গেলে প্রকৃত স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব।

এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তথ্যের অধিকার আইনকে কার্যত দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের মতে, স্বচ্ছতাই এই আইনের মূল ভিত্তি, যার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। নতুন নিয়মে আদৌ স্বচ্ছতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা কেসি বেনুগোপাল সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, “আরটিআই আইন তুলে দিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।”


Share    

RTI