School Turmoil

স্কুলের মাঠে নৃশংসতা! উত্তরপ্রদেশে সহপাঠীর হামলায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের চোখ নষ্ট, অভিযোগ দায়ের থানায়

জানা গিয়েছে, ২১ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটে৷ আঘাতপ্রাপ্ত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, অন্য সেকশনের দুই ছাত্র ওই খুদেকে একা পেয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। তাকে মাটিয়ে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, লখনউ
  • শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:৩৭

স্কুলের মাঠ খেলার জায়গা। এটি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কিন্তু সেই মাঠই হয়ে উঠল অত্যন্ত ভয়ের জায়গা। উত্তরপ্রদেশেই ঘটল এমন এক বিভীষিকাময় ঘটনা। লখনউয়ে এক আর্মি পাবলিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে দুই সহপাঠী বেধড়ক মারধর করে। এর ফলে তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পুরো দেশে হইহই রব ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তৃতীয় শ্রেণি ও একজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

জানা গিয়েছে, ২১ জানুয়ারি দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটে৷ আঘাতপ্রাপ্ত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, অন্য সেকশনের দুই ছাত্র ওই খুদেকে একা পেয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। তাকে মাটিয়ে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত ছাত্ররা তাদের জুতোর হিল দিয়ে ওই ছাত্রের চোখ ও মুখে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে।

আহত ছাত্রটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি বর্তমানে পুরোপুরি চলে গিয়েছে। লখনউয়ের কমান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোট এতটাই গুরুতর যে দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফেরানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ছাত্রের মা অভিযোগ করেন, এ ঘটনার স্কুল কর্তৃপক্ষ জানার পরেও কোনোও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, স্কুলের ভেতরে এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলেও কেন কোনো নজরদারি ছিল না! তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্র এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন স্কুল স্টাফদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঘটনার চারদিন আগে ঘটলেও ২৫ জানুয়ারি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। এরপর ৩০ জানুয়ারি এফআইআর দায়ের করে। লখনউয়ের ক্যান্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে এবং কেন এই ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুলের অন্দরে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


Share