Durga Squad

ডোমজুড়ে ছাত্রী খুনের পর আতঙ্কে পুরো এলাকা! মেয়েদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকেরা, নিরাপত্তার আশ্বাসে মাঠে দুর্গা বাহিনী

এ দিন ছুরিকাঘাতে নিহত দশম শ্রেণির ছাত্রীর বাড়িতেও যান দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দুর্গা বাহিনী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমজুড়
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ ১১:০৬

প্রকাশ্য রাস্তায় ছাত্রী খুনের ঘটনার দু'দিন পেরিয়ে গেলেও ডোমজুড়ের মহিয়ারির খটির বাজার এলাকায় আতঙ্কের আবহ এখনও কাটেনি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক অভিভাবক ভয়ের কারণে মেয়েদের একা স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। স্কুল বা টিউশনে যেতেও আতঙ্কে রয়েছে বহু ছাত্রী। একই অবস্থা কলেজপড়ুয়াদেরও তাঁরাও প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। নৃশংস এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার হাওড়া সিটি পুলিশের দুর্গা বাহিনীর মহিলা পুলিশকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়ে স্কুলপড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেন। তাঁরা একাধিক স্কুলের সামনে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাঁদের সাহস জোগান। এ দিন ছুরিকাঘাতে নিহত দশম শ্রেণির ছাত্রীর বাড়িতেও যান দুর্গা বাহিনীর সদস্যরা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ স্কুল ছুটির পর সাইকেলে করে স্থানীয় একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ক্লাস করতে যায় দশম শ্রেণির ছাত্রী ঋত্বিকা সামন্ত। স্কুল থেকে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছোতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট। সেই সময় তার আরও কয়েকজন সহপাঠীও সেখানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে ছ'টা পর্যন্ত ক্লাস থাকার কথা থাকলেও, ঋত্বিকা শিক্ষিকার অনুমতি নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট আগেই বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে যায়। অভিযোগ, ফেরার পথে এক যুবক তার পথ আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঋত্বিকা যে বেসরকারি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার শিখত, সেই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী শুক্রবার জানান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের কোনও উদ্বেগ নেই। তাঁর দাবি, কেন্দ্রটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কড়া। পাশাপাশি কাছেই রয়েছে ছাত্রীদের একটি বড় স্কুল। এ ছাড়া, হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের আরও একাধিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে এবং কোথাও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। তিনি আরও জানান, রথযাত্রা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। শুক্রবার থেকে ফের নিয়মমাফিক ক্লাস শুরু হয়েছে এবং ছাত্রীরাও যথারীতি উপস্থিত হয়েছে। ঋত্বিকার মৃত্যুর ঘটনায় সহপাঠীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও, এ দিনের উপস্থিতিতে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেন ওই কর্মী।

ঋত্বিকার মৃত্যুর ঘটনায় এ দিন স্কুলে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো স্কুলজুড়ে। শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং ছাত্রীরা সকলেই গভীরভাবে মর্মাহত। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি স্কুলের শিক্ষিকারা। শোকসভা শেষে এ দিন আগেভাগেই স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে খুব শিগগিরই অভিভাবকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করা হবে। সেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা ও গাইডলাইন তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যেই বহু অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা মেয়েদের একা স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।

অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, সাধারণত প্রাথমিক বিভাগ এবং পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই স্কুলে আসে। তবে উচ্চতর শ্রেণির অধিকাংশ ছাত্রী হেঁটে, সাইকেলে, পুলকারে, অটো বা টোটো করে যাতায়াত করে। কিন্তু বুধবারের ঘটনার পর সেই নিরাপত্তাবোধে বড় ধাক্কা লেগেছে। ফলে মেয়েদের একা স্কুলে পাঠানো নিয়ে এখন চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকেরা।


Share