Food Infection

ফুচকার টক জলে মিলল বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া! খানাকুলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে উদ্বেগ, সতর্ক করল স্বাস্থ্য দফতর

ফুচকার টক জলের নমুনা পরীক্ষায় হুগলির খানাকুলে একাধিক ক্ষেত্রে ই-কোলাই ও কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

ফুচকা খেতে ব্যস্ত লোকজন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, খানাকুল
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ ০৬:১৫

বাঙালির অন্যতম লোভনীয় স্ট্রিট ফুডের প্রথম তালিকায় রয়েছে ফুচকা। শহর থেকে গ্রাম, এমনকি বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ফুচকার চাহিদা তুঙ্গে। তবে ফুচকা প্রেমীদের জন্য এক উদ্বেগজনক খবর। সম্প্রতি হুগলির খানাকুলে ফুচকার টক জলের নমুনা পরীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। সরকারি পরীক্ষাগারের রিপোর্টে একাধিক নমুনায় ই-কোলাই ও কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের উদ্যোগে বিএমওএইচ-এর মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন ফুচকা বিক্রেতার কাছ থেকে টক জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মোট চারটি নমুনা সরকারি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যায়, কয়েকটি নমুনায় বিপজ্জনক মাত্রায় ই-কোলাই ও কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। এরপরই ওই জলকে ব্যবহারের অনুপযুক্ত ও অসুরক্ষিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে, রাস্তার ধারের বহু ফুচকা বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেন না। অনেক ক্ষেত্রে অপরিষ্কার হাতে ব্যবসায়ীরা আলু মেখে থাকেন। একই হাতে টাকা নেন। আবার সেই হাতেই টক জল পরিবেশন করেন। এমন বদ অভ্যাস গুলি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বর্ষাকালে পাত্র ঢেকে না রাখলে বৃষ্টির জল মিশে দূষণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, দূষিত জল শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, বমি, পেটের সংক্রমণ, জ্বর, এমনকি লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সংক্রমণ আরও গুরুতর আকার নিতে পারে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট ফুচকা বিক্রেতাদের শুধুমাত্র মিনারেল বা নিরাপদ পরিশ্রুত জল ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে ফুচকা বিক্রেতাদের খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় এনে লাইসেন্সের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, পরীক্ষার ফল দেখে সবাই বিস্মিত। তাঁর দাবি, টক জলের মধ্যেই বিপদের উৎস লুকিয়ে রয়েছে। তিনি জানান, ফুচকা বিক্রেতাদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে দুর্বল হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করা জরুরি। নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করে ফুচকা বিক্রি করার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও রাস্তার খাবার কেনার আগে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ও তিনি খুঁটিয়ে দেখতে সতর্ক করেছেন।

অন্য দিকে, আরামবাগের দীর্ঘদিনের ফুচকা বিক্রেতা সন্টু সিং জানান, তিনি সবসময় পরিশ্রুত পানীয় জল ব্যবহার করেন। যদিও তাঁর স্বীকারোক্তি, সব বিক্রেতা একইভাবে সতর্ক নন, যার প্রভাব পড়ছে সৎ ব্যবসায়ীদের উপরও।

একই দাবি করেছেন আরামবাগ হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকার ফুচকা বিক্রেতা দীনেশ রাম। তাঁর কথায়, তিনি পরিষ্কার জল ব্যবহার করেই ফুচকা তৈরি ও বিক্রি করেন। তাঁর ফুচকা খেয়ে কোনও ক্রেতার অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ কখনও ওঠেনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বর্ষার সময় রাস্তার খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। বিশেষ করে শিশুদের দূষিত জল বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার থেকে দূরে রাখাই নিরাপদ।


Share