Drug Seized

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই শহর জুড়ে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ বিদেশি গাঁজা, গ্রেফতার মাদক পাচারকারী হাসান

প্রাথমিক তদন্তে ধৃত জানিয়েছে, হাসান তার সহযোগীর কাছ থেকে আট কেজি হাইড্রোফোনিক গাঁজা সংগ্রহ করেছিল। অভিযুক্ত সহযোগী সম্প্রতি ব‍্যাঙ্কক থেকে ১২ কেজি হাইড্রোফোনিক গাঁজা নিয়ে এসেছে। হাসানের ওই সহযোগী পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

ধৃতের নাম হাসান আলি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩২

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি পরে কলকাতা জুড়ে মাদক পাচার চক্রের হদিশ পেতেই অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করেছে। ঘটনায় হাসান আলি নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে সাত কেজির বেশি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এই গাঁজা ব‍্যাঙ্কক থেকে আনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ধৃতকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে কসবা থানা এলাকার টেগর পার্কের শঙ্কর গেস্ট হাউসের একটি ঘরে অভিযান চালায় লালবাজারের নারকোটিক সেলের গোয়েন্দারা। সেখান থেকে হাসান আলি (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে ৫৫৮ গ্রাম হাইড্রোফোনিক গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এই হাইড্রোফোনিক গাঁজা মূলত তাইল‍্যান্ডের ব‍্যাঙ্কক থেকে ভারতে ঢোকে। সেই সঙ্গে হাসানের কাছ থেকে ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। একটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

ধৃতের মোবাইল পরীক্ষা করা হয়। হাসানকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তিলজলা থানার অন্তর্গত চৌবাগা রোডে আরও একটি ঠিকানার হদিশ মেলে। সেটাও হাসানের দ্বিতীয় ঠেক বলে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এরপরে হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে ছ’কেজি ৪৪৫ গ্রাম বিদেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। গোটা তল্লাশি অভিযানের যথাযথ ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয়েছে। 

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল বলেন, দুই জায়গা মিলিয়ে ৭ কেজির বেশি হাইড্রোফোনিক গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য দু’কোটির টাকার বেশি। ঘটনায় কসবা থানায় ১৭ জুলাই তারিখে মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদক আইনের ২০(বি)(ii)(বি) এবং ২৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে ধৃত জানিয়েছে, হাসান তার সহযোগীর কাছ থেকে আট কেজি হাইড্রোফোনিক গাঁজা সংগ্রহ করেছিল। অভিযুক্ত সহযোগী সম্প্রতি ব‍্যাঙ্কক থেকে ১২ কেজি হাইড্রোফোনিক গাঁজা নিয়ে এসেছে। হাসানের ওই সহযোগী পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তাইল‍্যান্ড থেকে কীভাবে গাঁজা শহরে ঢুকল তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাহলে কী বিমানবন্দরই ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, গোটা রাজ‍্যে বেআইনি মদ এবং গাঁজার ঠেক উপড়ে ফেলতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করেন, বারুইপুরের ঘটনার নেপথ্যে বেআইনি মদের ঠেকগুলির ভূমিকা রয়েছে। শুধু জনবহুল এলাকা নয়, গ্রামগঞ্জেও এই অভিযান চালাতে হবে। আগামী দু’সপ্তাহ এই অভিযান চালিয়ে এই ঠেকগুলিকে ভাঙতে হবে বলে রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোথাও যদি এমন বেআইনি ঠেকের হদিশ পাওয়া যায় তাহলে তা পুলিশকে জানাতে জনসাধারণের কাছে আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


Share