Delhi Riot

‘মোদী-শাহের কবর খুঁড়বে জেনএনইউতে’, দেশ বিরোধী স্লোগান কমিউনিস্ট সংগঠনের ছাত্রদের, ভিডিয়ো পোস্ট করে প্রতিবাদ বিজেপির

অতীতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশ বিরোধী স্লোগান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল, ‘কাশ্মীরকে ভারত থেকে স্বাধীন’ করার সম্পর্কিত স্লোগান। ২০২২ সালে ওই ক‍্যাম্পাসে ব্রাহ্মণ বিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল।

জেএনইউ-এর ‘দেশ বিরোধী’ স্লোগান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৪

‘মোদী-শাহ, তোর কবর জেএনইউয়ে খোঁড়া হবে!’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফের কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ দিল্লির জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে। দিল্লি হিংসার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদের সমর্থন করতে গিয়ে এমন স্লোগান সামাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার শীর্ষ আদালতে দিল্লি হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত শারজিল ইমাম এবং উমর খালিদ-সহ সাত জনের জামিন মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি হয়। পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর হলেও শারজিল এবং উমরের জামিন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার তাদের সমর্থনে বিক্ষোভ দেখায় জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিস্ট সংগঠনের এসএফআই, ডিএসএফ এবং আইসার ছাত্ররা।

ক‍্যাম্পাসের মধ্যে গেরিলা ধাবার সামনে বিক্ষোভ দেখানোর ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাতে তাঁদের বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মোদি-শাহ, তেরি কবর খুদেগি জেএনইউ কি ধরতি পর’ (বাংলায় অনুবাদ করলে- মোদি-শাহ, তোমাদের কবর জেএনইউ-এর মাটিতেই কবর দেওয়া হবে)। এনডিটিভি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেএনইউ ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক দানিশ এবং সম্পাদক সুনীলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার অভিযুক্তদের জামিন মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি হয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব‍্যক্তিস্বাধীনতা কখনওই জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগের ঊর্ধ্বে নয়। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে নয় বরং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তদন্তে ব্যবহার করা হয়।

দিল্লির ঘটনার মূল অভিযুক্ত এই উমর খালিদ এবং শারজিল আহমেদ। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, দিল্লির হিংসার ঘটনায় উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম যে ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনা করেছিল, তা জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বিচার-পূর্ব দীর্ঘ কারাবাসের উদ্বেগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদের জামিন এখনই দেওয়া হবে না বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত। তাদের জামিন আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে।

অতীতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশ বিরোধী স্লোগান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শোনা গিয়েছিল, ‘কাশ্মীরকে ভারত থেকে স্বাধীন’ করার সম্পর্কিত স্লোগান। ২০২২ সালে ওই ক‍্যাম্পাসেব্রাহ্মণ বিরোধী’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে হুমকিস্বরূপ লেখা ছিল-“ব্রাহ্মণ- বানিয়া, আমরা আসছি,” “আমরা বদলা নেব,” “ব্রাহ্মণরা ক্যাম্পাস ছাড়ো,” “ব্রাহ্মণরা ভারত ছাড়ো,” “এ বার রক্ত ঝরবে,” “শাখায় ফিরে যাও”-সহ আরও একাধিক আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। এ বার হিংসার ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের সমর্থনে কমিউনিস্টদের আন্দোলন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে আপত্তিকর মন্তব্য সামনে এল।


Share