Child Labour

নয়ডায় কাজে গিয়ে অত‍্যাচারের শিকার মালদহের এক শিশুকন‍্যা! গ্রেফতার অভিযুক্ত সিআরপিএফ কনস্টেবল তারিক আনোয়ার-সহ দু’জন

পুলিশ অভিযুক্ত সিআরপিএফ কনস্টেবল তারিক আনোয়ার এবং রিম্পা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে। গত ৪০ দিন ধরে ওই শিশুকন‍্যাটির ওপর অত্যাচার করেছে অভিযুক্তেরা। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১১০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ তারিক আনোয়ারকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়ডা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২০

অনাহারে কাটছিল দিন। তাই নয়ডায় কাজে গিয়েছিল ১০ বছরের এক শিশুকন‍্যা। তাকে দিনের পর দিন অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে এক সিআরপিএফের কনস্টেবল এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ওই শিশুটির বাড়ি মালদহ জেলায়। অভিযুক্ত সিআরপিএফের কনস্টেবল তারিক আনোয়ার-সহ দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, শিশুটি তাঁর বাবা, মা ও ছয় ভাইবোনের সঙ্গে মালদহে থাকত। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। তার পর শিশুটির বাবা ওই সংসারের দায়িত্ব নিতে অস্বিকার করে। মেয়েটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গিয়েছে। অনাহারেরই দিন কাটাচ্ছিল পরিবারটি। দু’বেলা ঠিক করে তাঁদের খাবার জুটত না। ওই শিশুটি পরিবারে সবথেকে বয়সে বড়। তাই সংসারের দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই এসে পড়ে।

পরিবার সূত্রের খবর, প্রায় ৪০ দিন আগে তাঁদের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় রিম্পা খাতুন শিশুটিকে ভুল বুঝিয়ে গ্রেটার নয়ডার সিআরপিএফের সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে আসে। সেখানেই একটি বাড়িতে কাজ করছিল। তাঁর কাজ ছিল, ওই দম্পতির দুই এবং চার বছর বয়সী ছোট ছেলের দেখাশোনা করতে সাহায্য করা। বাড়ির মালিক তারিক আনোয়ার বর্তমানে ওই এলাকায় কর্মরত একজন সিআরপিএফ কনস্টেবল।

সূত্রের খবর, ১৪ জানুয়ারী রাতে, গৃহস্থালির কাজ নিয়ে শিশুটির সঙ্গে তুমুল অশান্তি করেন ওই সিআরপিএফের কনস্টেবল তারিক আনোয়ার এবং তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, ঝগড়ার এক পর্যায়ে ওই দম্পতি শিশুটিকে লাথি ও ঘুষি মারে। এমনকী, তাঁর মাথা দেয়ালে ঠুকে দেয় বলেও অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি মেঝেতে পরে গিয়ে জ্ঞান হারায়। দ্রুত রক্তক্ষরণও শুরু হয় তাঁর। এরপর শিশুটিকে গ্রেটার নয়ডার সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযুক্ত তারিক আনোয়ার হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তারদের জানান, শিশুটি বাথরুমে পিছলে পড়ে গিয়েছিল। জখম শিশুটিকে দেখে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। চিকিৎসকদের অনুমান, আঘাতগুলি দুর্ঘটনার জন্য হতে পারে না। তাঁরা দেখেন, শিশুকন‍্যাটির শরীরে একাধিক পুরনো এবং তাজা আঘাত রয়েছে। চোখের নীচে কালো দাগ রয়েছে। মাথা আঘাত রয়েছে। বুকের গভীর ক্ষতচিহ্ন-সহ পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। পায়ে ফুলে রয়েছে এবং শরীরে অপুষ্টির লক্ষণও রয়েছে। রক্তে হিমোগ্লবিনের পরিমাণ ১.৯-এ নেমে এসেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সেক্টর ১২৮-এর একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আপাতত সেখানেই তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। 

এর পরেই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ অভিযুক্ত সিআরপিএফ কনস্টেবল তারিক আনোয়ার এবং রিম্পা খাতুনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, গত ৪০ দিন ধরে ওই শিশুকন‍্যাটির ওপর অত্যাচার করেছে অভিযুক্তেরা। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১১০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ তারিক আনোয়ারকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করেছে। 

শিশু কল্যাণ কমিটি (সিডব্লিউসি) মেয়েটিকে যত্ন এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবারের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ আদায় করা হবে না। সিডব্লিউসি (নয়ডা) চেয়ারপারসন কেসি বীরমানি বলেছেন, “শিশুটির অগ্রাধিকার হল, তার বেঁচে থাকা।” তিনি আরও বলেন, শিশুটি গুরুতর আহত হয়েছে। সে সম্পূর্ণ একা। বাকি সবকিছু পরে হবে।”


Share