Bangladesh Turmoil

বাংলাদেশে দু’লক্ষ হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হত‍্যার ষড়যন্ত্র! চট্টগ্রামের পড়ল পোস্টার, শোরগোল সমাজমাধ্যমে

পুলিশ পোস্টার বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করছে তাঁরা। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত চলাকালীন তারা প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে এই পোস্টার ঘিরে হিন্দু ও বৌদ্ধদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:২৪

বাংলাদেশের দু’লক্ষ হিন্দু এবং বৌদ্ধদের হত‍্যার ষড়যন্ত্র! চট্টগ্রামের রাউজানে পড়ল পোস্টার। সেই পোস্টার ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দ‍্য সানডে গার্ডিয়ান-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে একটি নির্দিষ্ট তারিখে গণহত‍্যার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এমন পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সেইগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

দ্য সানডে গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় উদ্ধার হয়েছে। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রায় দু’লক্ষ মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পোস্টারে আরও উল্লেখ রয়েছে, যে এই গণহত্যা চালানোর জন্য অর্থেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র সুসংগঠিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

পোস্টারে লেখা ছিল, “২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ জোগাড় করা হয়। এই পরিকল্পনা ও অর্থের সংগ্রহের উদ্দেশ্য ছিল, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মোট দু’লক্ষ মানুষকে হত্যা করা। রাউজানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হবে না।” বার্তাটিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, ওই এলাকা থেকে এই সম্প্রদায়গুলির কোনও চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে না।

যে এলাকায় পোস্টারটি পাওয়া গিয়েছে, সেখানে চলতি সপ্তাহে অন্তত সাতটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তদন্তের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিনে ভেজানো কাপড়ও উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি হাতে লেখা কিছু নোট পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যেখানে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা ছিল।

বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি কুশলবরুণ চক্রবর্তী জানান, পোস্টারটি পাওয়ার পর পুলিশ নিয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, পোস্টারের ভাষা থেকেই স্পষ্ট যে হিন্দু ও বৌদ্ধদের পরিকল্পিত ভাবে টার্গেট করার উদ্দেশ্য ছিল। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই হুমকির গুরুত্বকে স্পষ্ট করেছে। বিষয়টি নিয়ে একটি ন্যায্য ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার রয়েছে বলেও দাবি জানান।

পুলিশ পোস্টার বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করছে তাঁরা। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত চলাকালীন তারা প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।


Share