Middle East Conflict

ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা, তবু সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! হুথিদের কড়া বার্তা, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা থাকবে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৩

সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এগোচ্ছে ইরান। সেই কারণেই আপাতত তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনও সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা থাকবে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা আগেই ভেঙে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে আলোচনার রাস্তা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন। আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওদের (ইরান) সঙ্গে কথা বলছি। আমার মনে হয়, ওরা বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব এখন দিচ্ছে। তবে তার মানে এই নয় যে আমরা কোনও সমাধানে পৌঁছে গিয়েছি।’’ ইরানের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বেরিয়ে আসার একটা রাস্তা অবশ্যই সামরিক বলপ্রয়োগ, যেটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনে আক্রমণের জোর আরও বাড়িয়ে দিয়ে ওদের ধ্বংস করে দিতে পারি। আর অন্য রাস্তাটাও খোলা। সমঝোতার মাধ্যমে বুদ্ধিমানের মতো যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা।’’ দু’টি সম্ভাবনার জন্যই আমেরিকা প্রস্তুত, দাবি ট্রাম্পের।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমার কোনও ইঙ্গিত মিলছে না। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছে ইরান। সেই সঙ্গে তেহরানের সমর্থনে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সৌদির দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দায়ও হুথিদের উপরই বর্তেছে। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে আরও কোনও হামলা হলে তার জন্য ইরানকেই দায়ী করা হবে এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেবে আমেরিকার সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এর ফলে দেশটিতে টানা ১৩ দিন ধরে সামরিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। পাল্টা জবাবে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামী দিনে প্রয়োজন হলে বেসামরিক স্থাপনাকেও নিশানা করা হতে পারে।


Share