Bangladesh Turmoil

ঢাকার কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় মজুত করে রাখা বোমা থেকে জোরালো বিস্ফোরণ, উড়ল ছাদ, আশঙ্কাজনক দুই শিশু-সহ চার জন

ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন, তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত ও আবদুল্লাহ গুরুতর জখম হন। এর মধ্যে দু’জনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে দেওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:০১

নৈরাজ্য বাংলাদেশে। এ বার ঢাকার একটি মাদ্রাসায় জেরালো বিস্ফোরণ হয়েছে। দুই শিশু-সহ চার জন গুরুতর জখম হয়েছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঘটনাটি ঘটেছে। জখমদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, বোমা তৈরির রাসায়নিক এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ‘উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল’ মাদ্রাসার এক তলায় এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে এতটাই ছিল যে মাদ্রাসার পশ্চিম দিকের পর পর দু’টি দেওয়াল উড়ে গিয়েছে। এমনকি পাশের একটি বাড়ির দেওয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন, তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েতে (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) জখম হন। এর মধ্যে আছিয়া ও তাঁর দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-কে কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সইফুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, রাসায়নিক পদার্থ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও সেখানে গিয়েছে। থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, মজুত করে রাখা বোমা থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।

হাসনাবাদ এলাকার একজন বাসিন্দা ‘প্রথম আলো’-কে বলেন, “গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। তখন দৌড়ে গিয়ে দেখি, মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের দুটি ঘরের চারপাশের দেয়াল উড়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণে একতলার দুটি ঘরের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে রয়েছে। ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি ঘরে ফাটল ধরেছে।” ওই বাসিন্দা আরও বলেন, মাদ্রাসাটিতে ৩০ থেকে ৩৫ পড়াশোনা করত। এই বাড়ির এক পাশে তিনটি ঘরে মাদ্রাসার পড়াশোনা হতো। অপর পাশের একটি ঘরে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবার নিয়ে তিন বছর ধরে বসবাস করত।

এ ছাড়াও, বাড়ির মালিক পারভিন বেগম বলেন, “তিন বছর ধরে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। হারুন তাঁর শ্যালক আল আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। মাঝেমধ্যে মাদ্রাসায় আসতেন। আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিতাম। কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী কার্যক্রম চলছিল, তা বুঝতে পারিনি। আজ এসে দেখি, ঘরের চারপাশ উড়ে গিয়েছে। পুলিশ ভেতর থেকে রাসায়নিক, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।”

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের বুধবার ঢাকায় ককটেল বোমার আঘাতে এক জনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম সইফুল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, সইফুল রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, সেই সময় ঢাকার মগবাজার এলাকায় উড়ালপুল থেকে কেউ বা কারা ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে। গুরুতর জখম হন তিনি। ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি, সইফুল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রবীণদের সংগঠনের অফিসের দিকে ককটেল বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছে।


Share