Venezuela Crisis

তেলের টাকায় ‘মাদক সন্ত্রাস’! কুটনৈতিক ভিসা ব‍্যবহার করে মাদক পাচারের অভিযোগ স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে

আমেরিকা বলছে, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো ভেনিজুয়েলার বিদেশমন্ত্রী ছিলেন। বিদেশমন্ত্রী থাকার সময় মাদুরো তাঁর মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত করেন। সেই সময়ে স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো মাদক পাচারকারীদের ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বিক্রি করেছেন।

স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৪

তেলের টাকা ব‍্যবহৃত হয়েছে মাদক পাচারে। কুটনৈতিক ভিসা মাদক মাফিয়াদের বিক্রি করে পাচারে সাহায্য করেছেন। স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করেছে আমেরিকা।আমেরিকার ফেডারেল অভিযোগপত্রে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে নেমে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই অপরাধচক্রটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় ছিল। এতে ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস এবং তাঁর ছেলে নিকোলাস এরনেস্তো মাদুরো গুয়েরাও।

আমেরিকার প্রসিকিউটরদের মতে, গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর দলবল রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলিকেও দুর্নীতিগ্রস্ত করে আমেরিকায় টনের পর টন কোকেন পাচার করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সাল থেকেই মাদুরো ও তাঁর সহযোগীরা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেল, লস জেটাস, কলম্বিয়ার মাদক সন্ত্রাসবাদ গোষ্ঠী এবং ভেনেজুয়েলার অপরাধচক্র ট্রেন দে আরাগুয়া।

আমেরিকা বলছে, ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নিকোলাস মাদুরো ভেনিজুয়েলার বিদেশমন্ত্রী ছিলেন। বিদেশমন্ত্রী থাকার সময় মাদুরো তাঁর মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে ব্যাপক ভাবে বিস্তৃত করেন। সেই সময়ে স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো মাদক পাচারকারীদের ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বিক্রি করেছেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মেক্সিকোর ভেনেজুয়েলার দূতাবাসকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিমানে করে মাদক পাচারের অবৈধ অর্থ ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো হতো। এ সব বিমান কূটনৈতিক মর্যাদার আওতায় থাকায় তল্লাশি এড়ানো সম্ভব হতো।

আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের বাজেয়াপ্ত করা কোকেন আবার আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করতেন। এই গোটা মাদক পাচারের নেটওয়ার্ককে মাদুরো রাষ্ট্র-সমর্থন দিয়েছে। পাচারকারীদের সুরক্ষার জন্য অস্ত্রও পাচার করতেন। মাদক কেনাবেচার দেনা পরিশোধ না করা বা নিজের মাদকপাচারের নেটওয়ার্কের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর ও হত্যাকাণ্ড চালানো হতো বলে অভিযোগ করেছে আমেরিকা।

স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস এরনেস্তো মাদুরো গুয়েরা এই মাদক চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলেও অভিযোগ করেছে আমেরিকা। তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, মাদুরো পুত্র ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় বিমান, সামরিক সহায়তা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমেরিকায় কোকেন পাঠাতেন।

বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তিনি মাসে প্রায় দু’বার ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা পিডিভিএসএ-এর একটি ব‍্যক্তিগত বিমানে করে কোকেন বহন করে যাতায়াত করতেন। ওই বিমানে যে মাদক রয়েছে সেই বিষয়টি ভেনিজুয়েলার সামরিক কর্মীরা জানতেন। হলফনামায় এ-ও দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছিলেন যে ওই বিমান “যেখানে খুশি উড়তে পারে”, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমাতেও। এ ছাড়াও, ২০১৭ সালে মায়ামি ও নিউ ইয়র্কে বড় আকারের কোকেন পাচার করার পরিকল্পনায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ। আমেরিকার প্রসিকিউটরদের দাবি, পণ্যবাহী কন্টেনারে শত শত কিলোগ্রাম কোকেন লুকিয়ে বন্দরে ঢোকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।


Share