Hindu Attacked In Bangladesh

বাংলাদেশের ফের আক্রান্ত হিন্দু, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গায়ে ধরিয়ে দেওয়া হল আগুন, প্রাণে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ

খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, "খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। তিনি হামলাকারীদের দু’জনকে চিনে ফেলেছিলেন। তাই তারা তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে। আমাদের কারোর সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। আমি এই পৈশাচিক হামলার ঘটনার বিচার চাই।”

হিন্দু যুবককে খুনের চেষ্টা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা
ঢাকা
  • শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪৯

ফের বাংলাদেশে হিংসার শিকার এক হিন্দু ব্যক্তি। জখম প্রৌঢ়ের নাম খোকন দাস। বুধবার রাতে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, সেখানে ইসলামিক দুষ্কৃতীরা খোকন দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এর পরেই প্রাণে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দেন তিনি। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ ডামুড‍্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই কান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনের মতো খোকন দাস কেউরভাঙা বাজারে নিজের ওষুধের দোকান বন্ধ করে একটি অটোরিকশায় চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিল সারা দিনের ব্যবসার টাকা। আগে থেকেই তাঁর বাড়ির কাছাকাছি কোনও এক জায়গায় ওত পেতে ছিল ৩-৪ জন ইসলামিক দুষ্কৃতী। খোকন সেখানে পৌঁছোলে তারা অটোরিকশার পথ আটকায়।

এর পরেই খোকনকে আটো থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়। এর পরেই তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা সমস্ত টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয় ওই দুষ্কৃতীরা। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খোকন দাস হামলাকারীদের চিনে ফেললে তারা তাঁর শরীরে ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। বাঁচার জন্য খোকন দাস দৌড়ে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। 

তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মহম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, খোকনের মাথা, মুখমণ্ডল ও হাতে আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে। এ ছাড়াও, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর পেটে গভীর ক্ষত চিহ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে খোকনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে।

খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, "খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। তিনি হামলাকারীদের দু’জনকে চিনে ফেলেছিলেন। তাই তারা তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে। আমাদের কারোর সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। আমি এই পৈশাচিক হামলার ঘটনার বিচার চাই।” 

ডামুড্যা থানার ওসি মহম্মদ রবিউল হক জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাব্বি ও সোহাগ নামে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।


Share