Abhishek Banarjee

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে দমকলের অভিযান, মিলল একাধিক অগ্নিনিরাপত্তার গলদ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব

নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, ওই ভবনের দমকলের অনুমতিপত্রের মেয়াদ গত ১০ অগস্টই শেষ হয়ে গিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি-সহ হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০১

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে এ বার নোটিশ দমকল বিভাগের। নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দফতরের কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ হাজির হতে বলা হয়েছে।

সোমবার দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর পরিদর্শন করেন। শুধু অভিষেকের অফিসই নয়, তাঁরা পুরো ভবনটিই পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় বেশ কিছু ‘বিচ্যুতি’ নজরে এসেছে বলে দমকল বিভাগ নোটিশে উল্লেখ করেছে। নোটিশে আরও জানানো হয়েছে, ওই ভবনের দমকলের অনুমতিপত্রের মেয়াদ গত ১০ অগস্টই শেষ হয়ে গিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি-সহ হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, দমকল বিভাগের নোটিশে মোট ছ’টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় ভবনের বৈধ অগ্নিনির্বাপণ শংসাপত্র আধিকারিকদের হাতে পাওয়া যায়নি বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, পার্কিং এলাকার এক দিকে গেটের সামনে একটি নির্মাণ রয়েছে, যা ভবনের মূল নকশায় নেই। দমকলের গাড়ি যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওই নির্মাণ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ভবনের আটতলায় থাকা অফিসের ক্যান্টিনে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে। পাম্পের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও দমকল প্রশ্ন তুলেছে। দমকল সূত্রে খবর, আটতলার ভিতরের করিডরে প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য মাত্র একটি গেট রয়েছে। আগুন লাগলে এই ব্যবস্থা উদ্ধারকার্যে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সাত ও আটতলায় অগ্নিকাণ্ডের সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অ্যালার্মের ব্যবস্থাও নেই বলে জানিয়েছে দমকল।

অভিষেকের দলীয় দফতরে সাইনবোর্ড ভাঙাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবারই ৯, ক্যামাক স্ট্রিট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানা এফআইআর দায়ের করেছে। তাঁদের তলবও করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার আচমকা পুলিশের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা ওই ঠিকানায় পৌঁছোন।

৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনের দু’টি তলা তৃণমূল ভাড়া নিয়েছে। সেখানেই মূলত কাজ করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দমকল বিভাগের আধিকারিকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই দফতর এবং ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তাঁদের এক জন জানান, দু’-একটি বিষয়ে অসঙ্গতি নজরে এসেছে। তবে বিষয়গুলি আরও বিস্তারিত ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দমকল বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু ক্যামাক স্ট্রিট নয়, কলকাতার বিভিন্ন জায়গাতেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ দিকে, অভিষেক দমকলের এই অভিযানকে ‘সার্কাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘‘ভোটের এক মাসের মধ্যে ইভিএম রহস্যজনক ভাবে ভস্মীভূত হওয়ার আগে দমকলের এই সক্রিয়তা প্রয়োজন ছিল। তা হলে ইভিএম বাঁচত, কিছু মানুষের মুখ পুড়ত!’’

মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। থানার বাইরে বেরিয়ে ফের দমকলের তৎপরতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। অভিষেকের দাবি, রাজ্যের বিজেপি সরকার আগে এই ধরনের তৎপরতা দেখালে নিউ মার্কেটের হোটেলে প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো যেত। তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচনের ফলঘোষণার এক মাস পরে আলিপুরে ৪০০০ কন্ট্রোল ইউনিট পুড়ে গেল। তখন ফায়ার অডিট হয়নি।’’


Share