Venezuela Crisis

রাতভর আমেরিকার অভিযান ভেনিজুয়েলায়, স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল ট্রাম্পের সেনা

ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত চার দিন ধরে এই অভিযানের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সঠিক সময় এবং আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষা করছিলেন। স্বৈরশাসক মাদুরোকে একটি ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ থেকে ধরা হয়। তবে এই অভিযানে মার্কিন সেনার কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “কয়েক জন আঘাত পেলেও পরে তাঁরা ফিরে এসেছিলেন। এখন তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।”

স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:০২

হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু শোনেনি। গভীর রাতে ভেনিজুয়েলার কারাকাসে এয়ার স্ট্রাইক করেই দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরেই স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোকে এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হল আমেরিকার। তাকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আমেরিকার মাটিতেই স্বৈরশাসক নিকোলাসের বিচার হবে। 

ভেনেজুয়েলার স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতার হওয়ার পরে প্রথম ছবি প্রকাশ্যে আনেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সময় মাদুরোর চোখ কালো রঙের আবরণে ঢাকা, কানেও শব্দনিরোধক আবরণ। সে ভাবেই সেনাবাহিনীর জাহাজে করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় স্বৈরশাসক মাদুরোকে। আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসার পরেই বিচারের আওতায় আনা হবে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে।

অভিযান সফল হওয়ার পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ভেনেজুয়েলা এবং তার নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে বড় মাত্রার অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দেশ ছেড়েছেন।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ-ও বলেন, “ভেনেজুয়েলায় কী হবে, তা এ বার নির্ধারণ করবে আমেরিকাই।”

ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত চার দিন ধরে এই অভিযানের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সঠিক সময় এবং আবহাওয়ার উন্নতির অপেক্ষা করছিলেন। স্বৈরশাসক মাদুরোকে একটি ‘অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গ’ থেকে ধরা হয়। তবে এই অভিযানে মার্কিন সেনার কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “কয়েক জন আঘাত পেলেও পরে তাঁরা ফিরে এসেছিলেন। এখন তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।”

দীর্ঘ দিন ধরেই আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার চাপানউতর চলছিল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচলের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কোনও তেল ট্যাঙ্কার আসা-যাওয়া করতে পারবে না। সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সরকারকে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’ বলেছিলেন তিনি।

আমেরিকা বার বার দাবি করেছে, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করছে ভেনেজুয়েলা। ওই তেল আদতে চুরি করা হচ্ছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন খনি থেকে। তার পর তা বিক্রি করে জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। সে সব রুখতে কয়েক মাস আগে থেকেই ক্যারিবিয়ান সাগরে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ এবং পরমাণু-ডুবোজাহাজ নামিয়েছিল ট্রাম্পের সরকার। সর্ব ক্ষণ দেশটিকে একপ্রকার ঘিরে রেখেছিল আমেরিকার সেনা। স্বৈরশাসক মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ বলে অভিহিত করে তাঁকে পদত্যাগ করতেও বলেছিলেন। এমনকী, মাদুরোকে গ্রেফতার করার বিষয়ে তথ্য দিতে পারলে পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প।

ফ্লরিডার মার-আ-লাগো থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোকে  গ্রেফতার করতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। গোটা শহর ঢেকে যায় অন্ধকারে। ট্রাম্প বলেন, “গত কাল আমেরিকা যা অর্জন করেছে, বিশ্বের কোনও দেশ তা অর্জন করতে পারেনি।  সত্যি বলতে, অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সমস্ত সামরিক ক্ষমতা শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। কারণ, আমাদের সেনাবাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি রাতের অন্ধকারে মাদুরোকে সফল ভাবে ধরে ফেলেছিল। ভয়ঙ্কর অভিযান ছিল!”


Share