Donald Trump

আমেরিকা-ইরান সমঝোতা ঘিরে বিতর্ক, ‘ভালো আচরণ না করলে হামলা’, জি-৭ মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বাঁ শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি শুধুমাত্র একটি সমঝোতা স্মারক (মউ)। যদি এটি তাঁর পছন্দ না হয়, তবে তাঁরা আবার হামলা চালাব, আবার বোমা ফেলবে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:৫৯

চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দু’দিন আগে ফের ইরানকে কড়া বার্তা দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প। বুধবার ফ্রান্সের জি৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া তাঁর পছন্দ না হলে আমেরিকা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বাঁ শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি শুধুমাত্র একটি সমঝোতা স্মারক (মউ)। যদি এটি তাঁর পছন্দ না হয়, তবে তাঁরা আবার হামলা চালাব, আবার বোমা ফেলবে।

জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সদস্য রাষ্ট্রগুলির নেতারা একদিকে ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্য দিকে লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও তুলেছেন। তবে আমেরিকা-ইরান চুক্তির খসড়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে চুক্তির শর্ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ কিংবা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।

আমেরিকার প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, আনুষ্ঠানিক নথির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল দুই দেশের মধ্যে হওয়া গোপন আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি, যার উল্লেখ চুক্তিপত্রে নেই। ইতিমধ্যেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকে সই করেছে দুই দেশ। আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

এ দিকে আমেরিকার কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের একাংশ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির নামে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিতে পারে। সেই আবহেই ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সাংবাদিক বৈঠকে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসিকে নিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরান যদি ভালো আচরণ না করে, তাহলে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অন্য দিকে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও অন্তর্বর্তী মউ-কে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁর মতে, এটি একটি সাধারণ নথি মাত্র। আমেরিকান সূত্রের দাবি, ইরান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেই ওয়াশিংটন চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী হয়েছে, যদিও সেই প্রতিশ্রুতিগুলির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্রের খবর, চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, পরমাণু ইস্যুতে নতুন সমঝোতা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা কিছু তহবিল মুক্ত করার বিষয় রয়েছে। তবে আলোচনার অগ্রগতি ও পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এ দিকে জি-৭ সম্মেলনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প সামুদ্রিক পথ খুঁজে বের করতে আমেরিকাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রনেতারা।


Share