Bangladesh Turmoil

রামের মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে অশান্তি, কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনের হুমকির মুখে পড়ে বন্ধ নির্মাণকাজ, ফের অশান্ত বাংলাদেশ

সুদীপ্র প্রামাণিকের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা আর মনে থাকে না। তাঁর দাবি, রামচন্দ্রের ছবিকে যাঁরা অবমাননা করেছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।

ঢাকায় চলছে বিক্ষোভ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:৪১

মর্যাদা পুরুষোত্তম রামের মূর্তি নির্মাণকে ঘিরে ফের অশান্ত হয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনের হুমকির মুখে মূর্তি তৈরির কাজ স্থগিত রাখতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, কয়েক জন দুষ্কৃতী রামের ছবিতে জুতো মেরে ধর্মীয় অবমাননা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী পড়ুয়ারা পথে নামলেন। তাঁরা মশাল মিছিল করেছেন। অবিলম্বে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করতে দিতে হবে বলেও তাঁরা দাবি জানিয়েছেন। না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে মর্যাদা পুরুষোত্তম রামের মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। সেখানে ৮১ ফুট একটি উঁচু মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ হলে বাংলাদেশের মাটিতে সেটিই রামচন্দ্রের সর্বোচ্চ মূর্তি হিসেবে গণ্য হবে। হিন্দু পড়ুয়াদের দাবি, মূর্তিটির নির্মাণকার্য ৮০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে নির্দেশ আসে। মাঝপথে সেই মূর্তি নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, রামচন্দ্রে মূর্তি তৈরি হচ্ছিল বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন মৌলবাদী ইসলামিক সংগঠনের তরফে হুমকি আসছিল। তা নিয়ে সমাজমাধ‍্যমেও চাপ বাড়ছিল। সেখানে যতটুকু মূর্তি হয়েছে, তা ভেঙে ফেলার দাবি উঠছিল। এমন পরিস্থিতিতে নির্মাণকার্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরে বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুরা ফুঁসে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাসনকালে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

এমনিতেই অনুপ্রবেশের প্রশ্নে নিত্যদিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন আধিকারিকদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন তারেকের উপদেষ্টা জাহেদউর রহমান। অতীতের ভারত বিরোধী মন্তব্যের জেরেই তাঁকে আটকানো হয় বলে জানা যায়। সেই নিয়ে দিল্লির কাছে প্রতিবাদও জানায় ঢাকা। সেই আবহেই বাংলাদেশে মর্যাদা পুরুষোত্তম রামচন্দ্রের মূর্তি তৈরি নিয়ে যে অশান্তি দানা বাঁধছে, তাতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন করে কী প্রভাব পড়বে তা সময় বলবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সমাবেশ হয়েছে। তাতে বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্র প্রামাণিক। তার পরে একটি মশাল মিছিলটি বেরোয়। সুদীপ্র প্রামাণিকের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা আর মনে থাকে না। তাঁর দাবি, রামচন্দ্রের ছবিকে যাঁরা অবমাননা করেছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি, আগামী শুক্রবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামারও ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন। 

জানা গিয়েছে, গত ১২ জুন মূর্তি তৈরির বিরোধিতায় পলাশবাড়িতে একটি সমাবেশ হয়। সেখানে রামচন্দ্রের ছবিতে জুতো মারা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘটনার অনেকেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। কেন মূর্তি তৈরির কাজ বন্ধ থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। 

স্থানীয় সূত্রের এ-ও জানা গিয়েছে, ৮১ ফুট উঁচু মূর্তিটি তৈরি করতে ১৫ কোটি ছ’লক্ষ টাকা খরচ হবে। ওই প্রকল্পের আওতায় ৫০ ফুট উঁচু শ্রীকৃষ্ণ এবং ৩০ ফুট উঁচু শিবের মূর্তি তৈরি হওয়ারও কথা রয়েছে। শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির প্রেসিডেন্ট হরিদাসচন্দ্র দাস জানান, “সনাতন ধর্মের মূল চরিত্রদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ স্বরূপই মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু হুমকি-হুঁশিয়ারির জেরে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।”


Share