Middle East Conflict

হরমুজে আগুন, আমেরিকার অ্যাপাচে ভূপাতিতের পর ইরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা, যুদ্ধের মুখে পশ্চিম এশিয়া

ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণ ইরানের সিরিক-সহ বিভিন্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণ হয়েছে। যদিও হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাপ্তি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ফের উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৪:৩৩

পশ্চিম এশিয়ায় ফের চরম উত্তেজনা ছড়াল। এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকা ও ইরানের সামরিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীর কাছে আমেরিকার সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার নেয়। আমেরিকান বাহিনীর অভিযোগ, ইরানের ড্রোন হামলার জেরেই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়েছে। এর পরই ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় জবাবি হামলা চালায় আমেরিকা।

আমেরিকার প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন এলাকায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে কোনও অসামরিক এলাকায় আঘাত হানা হয়নি বলেও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

অন্য দিকে, ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাস্ক ও বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণ ইরানের সিরিক-সহ বিভিন্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণ হয়েছে। যদিও হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা ব্যাপ্তি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানে অন্তত তিন দফায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে ইরানের সংবাদসংস্থা ফার্সের দাবি, সিরিকের বেমানি এলাকায় দুটি জলাধার বিস্ফোরণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমেরিকার হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরানের ‘পরীক্ষা’ নেওয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও ধরনের হামলার জবাব দেওয়া থেকে কখনওই বিরত থাকবে না। অর্থাৎ, আরাঘচি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার বাহিনীর হামলার জবাব তাঁরা দেবেনই। আমেরিকাকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘যদি নিরাপদে থাকতে চাও তো আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাও।’’

এ দিকে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, আমেরিকার হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, আমেরিকার সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অ্যাপাচে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে ইরানি ড্রোনের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হামলার ফল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত চলাকালীনই ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা শুরু করে আমেরিকান বাহিনী।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনা নতুন করে সংঘাতের আগুনে ঘি ঢেলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এফ/এ-১৮ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে আমেরিকান বাহিনী।


Share