Calcutta High Court

কলেজের অধ‍্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার করা নিয়ে বিতর্ক, মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে

এই যুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “এটা কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়। আপনাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরে মামলা হলে আদালত কী করবে? আদালত যদি চোখ বন্ধ করে থাকে, তাহলে অনিয়ম চলতেই থাকবে।"

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:০০

অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার শুনানিতে কমিশনকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয় এবং কমিশনকে তাদের জারি করা বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা যখন যেমন খুশি বিজ্ঞপ্তি দেবেন? আমি কোনও রসিকতা করছি না। আপনাদের বিজ্ঞপ্তি যা বলছে, তাতে এবার বিচারপতিদের পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করুন। আপনারা তো বিচারপতিদেরও নিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছেন। কোনও অসুবিধা নেই। আমাদের নিয়োগ করুন। আমরা পোলিং অফিসার হিসেবে বুথে ডিউটি করতে যাব। আপনারা নিজেদের যখন খুশি নিয়ম বদল করছেন। আর আপনাদের নিজেদের নথি গড়মিলে ভরা।”

এর জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটের একেবারে মুখে এই মামলা করা হয়েছে। এখন নতুন করে কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “এটা কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয়। আপনাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরে মামলা হলে আদালত কী করবে? আদালত যদি চোখ বন্ধ করে থাকে, তাহলে অনিয়ম চলতেই থাকবে।”

কমিশনের তরফে আরও দাবি করা হয়, এই মুহূর্তে বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করলে ২৩টি জেলাজুড়ে নতুন করে নিয়োগ করতে হবে, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করতে পারে। এমনকি তারা জানায়, এই অবস্থায় আদালত হস্তক্ষেপ করলে নির্বাচন বন্ধ করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি মন্তব্য করেন, “তার মানে আপনারা অযৌক্তিক বিজ্ঞপ্তি দেবেন। সেটাকেই মান্যতা দিতে হবে? তাহলে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দিচ্ছি, সেখানে গিয়ে কমিশন এই যুক্তি দিক। বিচারকদের এসআইআর-এর কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। এখানেও সেটা কাজে লাগানো হোক। চলে যান সুপ্রিম কোর্টে।”

মামলার আবেদনকারীদের তরফের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “কমিশন রিজার্ভে যে অফিসারদের রেখেছে তাদের কাজে লাগাক। সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে কাজে লাগিয়েছে। সেই ক্ষমতা অন্য কোর্টের নেই।” বিচারপতির নির্দেশমতো শুক্রবার নিজেদের বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দিতে হবে কমিশনকে। না হলে নিজেদের মতো রায় দেবে আদালত। সুতরাং এদিন আদালতে কী জানায় কমিশন, সেদিকেই নজর সকলের।


Share