Assembly Election

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে বিজেপি, খাতা খুলতে পারে কলকাতায়, দাবি ‘জিট রিসার্চ’-এর জনমত সমীক্ষা

ভোটের শতাংশের নিরিখে তৃণমূল পেতে পারে ৪১.৫ থেকে ৪২.১ শতাংশ। বিজেপি পেতে পারে ৪৩.২ থেকে ৪৪.১ শতাংশ ভোট। কংগ্রেস পেতে পারে ৪.৭ থেকে ৫.১ শতাংশ ভোট। আইএসএফ পেতে পারে ১.৮ থেকে ২.১ শতাংশ ভোট। সিপিএম পেতে পারে ২.৮ থেকে ৩.৪ শতাংশ ভোট।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৩

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন দু’ফায় হবে। ৪মে রাজ‍্যের মসনদে কে বসবে তা নির্ধারণ করা হবে। রাজ‍্যে পরিবর্তন হতে চলেছে বলে দাবি করেছে ভোটকুশলী সংস্থা ‘জিট রিসার্চ’। তাঁদের জনমত সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের থেকে বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। সরকারও বিজেপি গঠন করতে পারে।

‘জিট রিসার্চ’-এর জনমত সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, কলকাতার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে খাতা খুলতে পারে বিজেপি। কলকাতায় মোট ১১টি বিধানসভা আসন রয়েছে। জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, তার মধ্যে ছ’টি আসন বিজেপি পেতে পারে। চারটি আসন তৃণমূল পেতে পারে। একটি আসনে তাঁরা বিজেপির থেকে অল্প ব্যবধানে তৃণমূলকে এগিয়ে রেখেছেন। কলকাতা তৃণমূলের গড়। সেখানে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপিকে এগিয়ে রাখছেন সমীক্ষকেরা।

সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায় জেলায়। সেখানে ৩৩টি বিধানসভা আসন রয়েছে। ‘জিট রিসার্চ’-এর সমীক্ষায় এই জেলা থেকে বিজেপি আশানুরূপ ফল করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। ওই সংস্থার জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এই জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে বিজেপি জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬টি আসনে যাবে তৃণমূল শিবিরে। একটি আসন আইএসএফ জিততে পারে। একটি করে মোট দু’টি আসনে বিজেপি এবং তৃণমূল অল্পের জন‍্য এগিয়ে রয়েছে। 

এর পরের বৃহত্তর জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট ৩১টি বিধানসভা আসন রয়েছে। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই জেলা থেকে বিজেপি থাবা বসাতে পারেনি। সংস্থার জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এই জেলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে খাতা খুলতে পারে। চারটি আসন বিজেপি জিততে পারে। দু’টি আসন জিততে পারে আইএসএফ। ১৭টি আসন তৃণমূল জিততে পারে। একটি আসনে তৃণমূল অল্পের জন্য এগিয়ে রয়েছে। ওই সাতটি এমন আসন রয়েছে তাতে কে জয়লাভ করতে পারে তা সমীক্ষকেরা স্পষ্ট করেনি।

এর পরে বৃহত্তম জেলা হল মুর্শিদাবাদ। সেখানে ২২টি আসন রয়েছে। সেখানে ১৫টি আসনে তৃণমূল জিততে পারে। বিজেপি এই জেলায় চারটি আসনে জয়ী হতে পারে। কংগ্রেস এই জেলা থেকে দু’টি আসন জিততে পারে। একটি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করেছেন সমীক্ষকেরা। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া নদিয়া জেলা। এই জেলাতে ১৭টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি পেতে পারে ১৩টি আসন। তৃণমূল পেতে পারে চারটি আসন।

হুগলিতে ১৮টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে ন’টি আসনে বিজেপি জিততে পারে। তিনটি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। চারটি আসন জিততে পারে তৃণমূল। দু’টি আসনে বিজেপির থেকে তৃণমূলকে এগিয়ে রেখেছেন সমীক্ষকেরা। অন‍্য দিকে, হুগলি লাগোয়া জেলা হাওড়ায় ১৬টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এই জেলা থেকে তৃণমূল পেতে পারে ১৩টি আসন। বিজেপি পেতে পারে দু’টি আসন। একটি আসনে বিজেপির থেকে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। এই জেলায় তৃণমূলের সংগঠনিক শক্তি যেমন বেশি তেমনি বিজেপির নেতৃত্বের অভাব বলেই মনে করেছেন সমীক্ষকেরা।

পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসন রয়েছে। এই জেলার নন্দীগ্রাম আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর গড়ে বিজেপি ১৫টি আসন পেতে পারে। তৃণমূল একটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন‍্য দিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি ১০টি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। চারটি আসনে তৃণমূল জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। 

আবার পূর্ব বর্ধমানে ১৬টি আসনের মধ্যে খাতা খুলতে চলেছে বিজেপি, এমনটাই মনে করছেন ভোটকুশলী সংস্থা ‘জিট রিসার্চ’-এর সমীক্ষকেরা। বিজেপি এই জেলা থেকে পাঁচটি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। ১০টি আসন যেতে পারে ঘাসফুল শিবিরে। একটি আসনে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে। ওই আসনটিতে বিজেপির পাল্লা ভারী বলে দাবি করেছে ওই সংস্থা।

বাঁকুড়াতে ১১টি আসনের মধ্যে সবকটিতেই বিজেপির পাল্লা ভারী রয়েছে। ওই জেলায় ১০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। একটি আসনে তৃণমূলের থেকে অল্প ব‍্যবধানে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। পুরুলিয়ায় ন’টি আসনে বিজেপি জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়গ্রামে চারটি আসনের মধ্যে তিনটি বিজেপির জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। পশ্চিম বর্ধমানের ন’টি আসনের মধ্যে আটটি আসন বিজেপির দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসন জিততে পারে তৃণমূল।

এ বার আসা যাক বীরভূমে। এই জেলায় গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার তৃণমূল। দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের জেলায় ১১টি আসন রয়েছে। বিজেপি এই জেলায় আসন সংখ্যা বাড়াতে পারে বলে জনমত সমীক্ষা চালিয়ে দাবি করেছে ‘জিট রিসার্চ’। সমীক্ষকেরা মনে করছেন, এই জেলায় তৃণমূল পাঁচটি আসন জিততে পারে। একটি আসনে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রয়েথে তৃণমূল। চারটি আসনে বিজেপির জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে বিজেপি অল্প ব্যবধানে এগিয়ে রাখছেন তাঁরা।

উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ে পাঁচটি আসন রয়েছে। একটি আসনেও তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ‘জিট রিসার্চ’। সবকটি আসনই বিজেপির জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। কালিম্পংয়ের একটি আসন বিজেপি জিততে পারে। আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনেই বিজেপির দখলে যেতে পারে। জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজেপি জিততে পারে। একটি আসন জিততে পারে তৃণমূল। একটিতে অল্পের জন্যে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।

মালদহে বিজেপির ফলাফল ভাল হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ‘জিট রিসার্চ’। এই জেলায় ১২টি আসনের মধ্যে ছ’টি আসনে বিজেপির জেতার সম্ভাবনা বেশি। তিনটি আসনে কংগ্রেস জেতার সম্ভাবনা বেশি। তৃণমূল দু’টি আসনে জিততে পারে। একটি আসনে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে। তবে ওই আসনে তৃণমূলকেই এগিয়ে রেখেছেন সমীক্ষকেরা।

ন’টি আসন সম্পন্ন কোচবিহার জেলায় বিজেপির আটটি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে তৃণমূলের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই রয়েছে। তবে ওই আসনে বিজেপির পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন সংস্থার সমীক্ষকেরা। দক্ষিণ দিনাজপুরের ছ’টি আসনের মধ্যে বিজেপি চারটি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি আসনে তৃণমূল জিততে পারে। একটি আসনে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে। সেই আসনে তৃণমূলকেই এগিয়ে রাখা হয়েছে। অন‍্য দিকে, উত্তর দিনাজপুরের ন’টি আসনের মধ্যে বিজেপি চারটি আসনে জিততে পারে। তৃণমূল চারটি আসনে জয়লাভ করতে পারে। একটি আসন যেতে পারে কংগ্রেসের দখলে।

‘জিট রিসার্চ’-এর জনমত সমীক্ষায় রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি সরাসরি লড়াই হতে চলেছে। কিছু আসনে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস এবং কিছু আসনে আইএসএফের সঙ্গে সরাসরি লড়াই রয়েছে। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা সিপিএম নির্বাচনী লড়াইয়ে কার্যত নেই বলেই জনমত সমীক্ষায় দাবি করেছে ‘জিট রিসার্চ’।

ভোটকুশলী সংস্থা ‘জিট রিসার্চ’-এর মতে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১১৩ থেকে ১২১ এর মধ্যে থাকতে পারে। বিজেপির আসন সংখ্যা ১৬৪ থেকে ১৭২ এর মধ্যে থাকতে পারে। কংগ্রেসের আসন সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতের মধ্যে থাকতে পারে। আইএসএফের আসন সংখ্যা দুই থেকে তিনের মধ্যে থাকতে পারে। সিপিএমের আসন সংখ্যা শূন্য থেকে একটির মধ্যে থাকতে পারে।

ভোটের শতাংশের নিরিখে তৃণমূল পেতে পারে ৪১.৫ থেকে ৪২.১ শতাংশ। বিজেপি পেতে পারে ৪৩.২ থেকে ৪৪.১ শতাংশ ভোট। কংগ্রেস পেতে পারে ৪.৭ থেকে ৫.১ শতাংশ ভোট। আইএসএফ পেতে পারে ১.৮ থেকে ২.১ শতাংশ ভোট। সিপিএম পেতে পারে ২.৮ থেকে ৩.৪ শতাংশ ভোট। আইএসএফের ভোটের শতাংশের নিরিখে সিপিএম বেশি পেলেও তা আসনে পরিবর্তন করার সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সমীক্ষকেরা।


Share