Donald Trump

ইজরায়েলের হামলার আশঙ্কায় ইরানকে গোপনে সতর্ক করেছিল আমেরিকা! শান্তি-আলোচনা বাঁচাতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের

সেই আশঙ্কার জেরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশকে অনুরোধ করেছিল, তারা যেন বিষয়টি ইরানকে সতর্ক করে জানায়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫

ইরানের হয়ে আমেরিকার সঙ্গে মধ্যস্থতায় যুক্ত দুই আধিকারিককে ইজরায়েল হত্যা করতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিল আমেরিকা। সেই আশঙ্কার জেরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশকে অনুরোধ করেছিল, তারা যেন বিষয়টি ইরানকে সতর্ক করে জানায়। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের সম্ভাব্য নিশানায় ছিলেন ইরানের দুই শীর্ষ নেতা। তাঁদের মধ্যে একজন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং অন্যজন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন আমেরিকার আধিকারিককে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, গত এপ্রিলে এই দুই নেতার উপর ইজরায়েলি হামলার আশঙ্কা করেছিল আমেরিকা। সেই সময়ই অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, ইরানের এই দুই শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা হলে শান্তি-আলোচনার প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আমেরিকার প্রশাসনের একাধিক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর তেহরানের একাধিক শীর্ষ নেতা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে ছিলেন। তবে এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর হোয়াইট হাউস তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। পেন্টাগনের আশঙ্কা ছিল, আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইজরায়েল যদি আব্বাস আরাঘচি এবং মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফকে হত্যা করে, তাহলে চলমান আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে।

ইরানের কট্টরপন্থী শিবিরের সঙ্গে সাধারণত একাত্ম করে দেখা হতো না আলি লারিজানিকে। বরং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী ও বাস্তববাদী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একসময় পর্যন্ত আয়াতোল্লা খামেনেই-ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী রাজনীতির বিকল্প হিসেবে লারিজানিকেই ইরানের গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করছিল আমেরিকা। তবে ইজ়রায়েলের বিমান হামলায় তাঁর মৃত্যু সেই সম্ভাবনায় ইতি টানে। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। ঘটনাচক্রে, বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা হয়েছে। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলবে। আলোচনার ভিত্তিতে পরে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। তবে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-এর প্রতিবেদন নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি দুই পক্ষের কেউই।


Share