Ritabrata Banerjee

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ঋতব্রতদের বৈঠক, ‘আসল তৃণমূল’ দাবিতে জোড়াফুল ও দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ চাইল শিবির

দুপুর ১২টায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে ঋতব্রতেরা ফের নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৪:২২

দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। ঋতব্রত-সহ মোট ১০ জন প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ন'জন বিধায়ক এবং এক জন প্রাক্তন মন্ত্রী। দুপুর ১২টায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে ঋতব্রতেরা ফের নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ বলে কটাক্ষ করেন তাঁরা।

ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কর্মী এবং সমর্থক তাঁর সঙ্গেই আছেন। যাঁরা আজকে নিজেদের ‘আসল’ বলে দাবি করছেন, দু’মাস আগে কমিশনে তাঁরা যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তার নির্দিষ্ট দু’টি ফর্মে মমতাদি এবং অভিষেকের সই ছিল। আজকে ভাড়াটিয়া নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করলে কী হবে?” পরে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং লোকসভার সাংসদ সৌগত রায়ও ঋতব্রতদের নির্বাচন কমিশন-সফরকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রভাবেই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। পাশাপাশি তাঁদের প্রশ্ন, তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রতদের দলের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত না করা সত্ত্বেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে তাঁদের সাক্ষাতের সময় দিলেন?

অন্য দিকে, শুক্রবার দুপুরে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, গত ২২ জুন তাঁরা তৃণমূলের একটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করেছিলেন। সেই বৈঠকের পর নতুন কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে। ঋতব্রতের দাবি, ওই নতুন কর্মসমিতিতে জায়গা পাননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন কর্মসমিতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার জন্য কমিশনের কাছে সময়ও চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দলের প্রতীক এবং তহবিল কোন শিবিরের হাতে যাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, “কোনও রকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে।” আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। আশা রাখি, কমিশনের তরফ থেকে দ্রুত ডাক পাব।”

ঋতব্রতের দাবি, দলের নামের সঙ্গে ‘তৃণমূল’ শব্দটি থাকলেও বাস্তবে তা একটি পারিবারিক দলে পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দলকে আবার প্রকৃত অর্থে তৃণমূল স্তরে ফিরিয়ে আনাই তাঁদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই ব্যক্তি এবং পরিবারের বিরুদ্ধে।’’ এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করেই কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, “চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাটের কথায় দল চলবে না।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিষেকের চার্টার্ড বিমানে যাতায়াতের প্রসঙ্গ টেনেই পরোক্ষে আক্রমণ শানিয়েছেন।

গত ২২ জুন নিউটাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৃণমূলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীরা। পরের দিন, ২৩ জুন, সেই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেও যান। ঋতব্রতের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের ঘোষিত জাতীয় কর্মসমিতির চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা এবং কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান।

সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠানো চিঠি এবং দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো ইমেলে নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছে ঋতব্রত শিবির। সেই সঙ্গে দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণের অধিকারও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এর আগে কমিশনের কাছে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য ছিল, ‘‘প্রতীক দাবি করব কেন? দাবি করার কী আছে? দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। আমরাই তো তৃণমূল।’’ বৃহস্পতিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও সেই একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত।


Share