Middle East Conflict

শান্তিচুক্তি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আগুন! ইরানে আমেরিকার ভয়াবহ হামলা, সেতু-রেলস্টেশন-বিমানবন্দর গুঁড়িয়ে পালটা ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি তেহরানের

শান্তিচুক্তি ভেঙে যাওয়ার পরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

ইরানে হামলা চালাল আমেরিকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ ০৩:০২

শান্তিচুক্তি এখন কার্যত অতীত। মধ্যপ্রাচ্যে টানা ছ'দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে ইরান ও আমেরিকার পাল্টাপাল্টি হামলা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরানের একাধিক বেসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালায় আমেরিকার সেনা। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি সেতু, একটি রেলস্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর। প্রাথমিকভাবে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। শান্তিচুক্তি ভেঙে যাওয়ার পরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারির পরেই শুরু হয়েছে ধারাবাহিক এই ভয়াবহ হামলা, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অন্য দিকে পালটা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। জানা গিয়েছে, জর্ডনেও হামলা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ইরানি আক্রমণের আশঙ্কায় কাতার প্রশাসন জারি করেছে উচ্চ সতর্কতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এর আগে আমেরিকার হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বাহারিন ও কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল মোজতবা খামেনেইর নেতৃত্বাধীন ইরান।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক উপকূলীয় শহর ও দ্বীপে মার্কিন হামলার খবর সামনে এসেছে। আহভাজ, কেশম, বুশেহর, দাশতি, বোস্তান, সিরিক এবং বন্দর-এ-লেঙ্গেহ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগের রাতের তুলনায় এ দিনের হামলায় পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। বন্দর-এ-খামিরের কাছে তিনটি সেতুকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাসের ‘তাপেহ আল্লাহ আকবর’ এলাকা-সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমেরিকার বায়ুসেনার আঘাত হানার খবর মিলেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজগান প্রদেশে সড়ক ও রেলপথ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দিকে, ইরানশহরের একটি বিমানবন্দরও হামলার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শহরের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশ দ্বীপেও বিমান হামলার ফলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাতের আবহে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতেরও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব জ্বালানি-সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপরও পড়তে পারে।


Share