Murder Case

বালতির জলে মাথা ডোবানোর পরে কাটা হল হাতের শিরা! কৃষ্ণনগরের হোস্টেলে খুন সাত বছরের শিশু, আটক দুই নাবালিকা

শনিবার ভোরে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত একটি বালিকা বিদ্যালয়ের হোস্টেলে ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানকার শৌচাগার থেকে সাত বছরের একটি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দু’জন নাবালিকাকে আটক করা হয়েছে।

এই হোস্টেলেই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৯:৪৭

হোস্টেলে দুই ‘দিদি’র হাতে খুন সাত বছরের শিশু। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই শিশুকে প্রথমে বালতির জলে মাথা ধরে ডোবানো হয়। তার পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাতের শিরা কাটা হয়। ওই হোস্টেলের দু’জন ছাত্রীকে আপাতত হোমে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, দু’জনেই দোষ স্বীকার করেছে।

শনিবার ভোরে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত একটি বালিকা বিদ্যালয়ের হোস্টেলে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, ওই হোস্টেলের শৌচাগার থেকে সাত বছরের একটি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার বলছে, গ্রীষ্মের ছুটির পরে শুক্রবারই তাঁরা শিশুটিকে হোস্টেলে দিয়ে যায়। ঘটনার পরে কোতোয়ালি থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শনিবার ভোরে শিশুটি স্নান করার জন‍্য শৌচাগারে গিয়েছিল। পিছন পিছন হোস্টেলের আবাসিক দুই ছাত্রী সেখানে ঢুকে পড়ে। এর পরে শিশুটির মাথা ধরে বালতির জলে চুবিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয়। তারপরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ডান হাতের শিরা ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। প্রমাণ নষ্ট করতে বালতিটিকে এক কোণে সরিয়ে রাখে তাঁরা। তারপরে শৌচাগারের দরজা বন্ধ করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। ওই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত হোস্টেলের ওয়ার্ডেন খোঁজ করতে গিয়ে শৌচাগারের ভিতর থেকে ওই শিশুটিকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।

হোস্টেলের আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুই ছাত্রীর উত্তরে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাঁরা একজন নবম শ্রেণির অপরজন দশম শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাঁরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। দুই ছাত্রীকে আপাতত হোমে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার সেখানে ফরেন্সিকের একটি দল গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। 

কিন্তু কেন সাত বছরের শিশুটিকে ১৫-১৫ বছরের দুই নাবালিকা হাতে খুন হতে হল? তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নবম এবং দশম শ্রেণির দুই ছাত্রী ওই হোস্টেলে থাকতে চাইছিল না। তাই হোস্টেলের ভিতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাঁরা মনে করেছিলেন, বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারলে কর্তৃপক্ষ হোস্টেল বন্ধ করে দেবে। 

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ‘‘আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় দু’জনের বয়ানে অসঙ্গতি মেলে। টানা জেরায় খুনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একপ্রকার নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। হস্টেল বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য ছিল ওই দু’জনের। তবে তদন্তের এখনও অনেক বাকি। বেশ কিছু নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।’’

মৃত ছাত্রীর বাবা অনিমেষকুমার সাহা বলেন, “আমি স্কুলের ভেতরে গিয়েছিলাম। সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে যে দু'জন ছাত্রীকে এই ঘটনায় আটক করার খবর জানতে পারি।” তিনি আরও জানান, ‘‘দেড় বছর ধরে হস্টেলে থাকত মেয়ে। কখনও হস্টেল নিয়ে খারাপ কিছু বলতে শুনিনি ওকে। আমার মনে হয়, নেশা করে দুই ছাত্রী এই ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে শুধু ওরা নয়, আমার মনে হয়, এটা ষড়যন্ত্র করে খুন। বড় মাথা রয়েছে।’’

অন্য দিকে, এই ঘটনার পর হোস্টেলে থাকা অন্যান্য ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কে ভুগছেন। হোস্টেলের অন্যান্য ছাত্রীদের মায়েরাও ঘটনার খবর পেয়ে স্কুলে এসে ভিড় জমান।  এই ঘটনার পর কোনও অভিভাবকই আর তাঁদের সন্তানদের এই হোস্টেলে রাখতে ভরসা পাচ্ছেন না। তাঁরা প্রত্যেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।


Share