Death of Civic Volunteer

সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র কল‍্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল, সিস্টার রুম ভাঙচুর, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ চিকিৎসকদের

জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পরিবারের দাবি, পেটের সমস্যা থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ তাঁকে কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ সিভিক ভলান্টিয়ার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কল্যাণী
  • শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৭

রবিবার দুপুরে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। অভিযোগ, হাসপাতালের পুরুষদের মেডিসিন বিভাগের সিস্টার রুমে ঢুকে মৃতের পরিবারের সদস্যরা ভাঙচুর চালিয়েছে। হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

মৃত সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম তাপস সাহা (৩৬)। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর বাগ মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অন্তর্গত বিজপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পর থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পরিবারের দাবি, পেটের সমস্যা থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ তাঁকে কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। ব্লাড সুগারের অতিরিক্ত মাত্রায় নীচে চলে যায়। রবিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরই পরিবারের সদস্যেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ, সদরবলে তাঁরা মেল মেডিসিন বিভাগের সিস্টার রুমে ভাঙচুর চালান। লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে পুরুষদের মেডিসিন বিভাগ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে কাগজপত্র।

তাঁদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, মৃত্যুর খবর পেয়ে আশপাশ এলাকা থেকে বেশ কয়েক জন সিভিক ভলেন্টিয়ার হাসপাতালে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাঙচুরে যোগ দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যান্য কর্মীরা এগিয়ে আসেন।

ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের কথায়, হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নেই। তাঁর দাবি, রোগীর মৃত্যু হলেই প্রায়শই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। বিষয়টি একাধিক বার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই পরিষেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।


Share