Sugar Prices

উৎসবের মরশুমে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায়, বড় ক্রেতাদের মজুতের সময়সীমা কমিয়ে ১৫ দিন করল কেন্দ্র

কিন্তু সেই পদক্ষেপের পরেও বাজারে চিনির দাম কমেনি। বরং গত এক মাসে দেশে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে রয়র্টাসের-এর একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৩:০৪

উৎসবের মরশুমের আগে দেশে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরবরাহ বাড়ানো এবং মজুতদারি ঠেকাতে এ বার কেন্দ্র বড় ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য চিনির মজুতের সীমা আরও কমাল। সরকারের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী বড় ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানগুলি ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবে না।

কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন দফতরের ১৯ অগস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নতুন মজুতসীমা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। তা বহাল থাকবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এর আগে জুলাই মাসে কেন্দ্র বড় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য চিনির মজুতের সীমা ৩০ দিন নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই পদক্ষেপের পরেও বাজারে চিনির দাম কমেনি। বরং গত এক মাসে দেশে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে রয়র্টাসের-এর একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রের নতুন নির্দেশ মূলত সেই সব গ্রাহক ও বড় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের জন্য, যাঁরা মাসে অন্তত ১০ মেট্রিক টন চিনি ব্যবহার করেন। এই তালিকায় রয়েছে বিস্কুট ও মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা, কনফেকশনারি ব্যবসা, সফ্ট ড্রিঙ্ক প্রস্তুতকারী সংস্থা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা এবং অন্যান্য বড় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা। গত এক বছরের গড় মাসিক চিনির ব্যবহার হিসাব করেই ১০ মেট্রিক টনের সীমা নির্ধারণ করা হবে। তবে চলতি মাসের ব্যবহার এই হিসাবের আওতায় পড়বে না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং স্থানীয় প্রশাসনের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই মজুতসীমা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য হল বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বড় ক্রেতাদের অতিরিক্ত চিনি মজুতের প্রবণতা রোখা। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে দেশে চিনির চাহিদা দ্রুত বাড়ে। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলি পরপর থাকায় অগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চিনির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।

মিষ্টি, বিস্কুট, কনফেকশনারি-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা এই সময়ে আগেভাগেই তুলনামূলক বেশি পরিমাণে চিনি মজুত করে রাখে। এর ফলে বাজারে চিনির সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তের লক্ষ্য, সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখা।

এর আগে গত মাসেই কেন্দ্র বড় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য চিনির মজুতের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৩০ দিন নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু তাতেও বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাই এ বার সেই সময়সীমা অর্ধেক করে ১৫ দিন করা হল। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলি প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি দীর্ঘ সময় ধরে গুদামজাত করে রাখার সুযোগ আর আগের মতো পাবে না।

দেশে গত এক মাসে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় আগামী কয়েক মাসেও দাম চড়া থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে আসার পাশাপাশি উৎসবকে কেন্দ্র করে চাহিদা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও চাপের হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অনিয়মিত বৃষ্টি এবং কিছু এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া আখের ফলনেও প্রভাব ফেলেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আখ চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হওয়ায় আবহাওয়ার এই পরিবর্তন উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চিনির সরবরাহেও।

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র আরও কয়েকটি পদক্ষেপের কথা ভাবছে বলে রয়র্টাসের রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তার মধ্যে সীমিত পরিমাণে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দীর্ঘদিন পর ভারতীয় বাজারে ফের বিদেশ থেকে চিনি আমদানির সুযোগ খুলতে পারে। যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি। পাশাপাশি, বড় ক্রেতাদের হাতে চিনির মজুতের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

চিনি ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল পণ্য। উৎসবের মরসুমে মিষ্টি-সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। ফলে চিনির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে। এই পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—উৎসবের ব্যস্ত তিন মাসে বাজারে চিনির পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে চাইছে কেন্দ্র। নতুন ১৫ দিনের মজুতসীমা কার্যকর হওয়ার পর বাজারে চিনির সরবরাহ কতটা বাড়ে এবং তার প্রভাব খুচরো দামে পড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর।


Share