Kunal Ghosh

তারাপীঠ-নিউ মার্কেটের আগুনে প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন, সিটের তদন্তে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি কুণাল ঘোষের

তারাপীঠ ও কলকাতার জোড়া অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮টি প্রাণহানির পর রাজ্য প্রশাসনের সামগ্রিক মানসিকতা ও পরিকাঠামো নিয়ে এ ভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪১

“প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর কিছু দিন শোরগোল হয়। তার পর নতুন কোনও ইস্যু সামনে এলেই আগের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার।” তারাপীঠ ও কলকাতার জোড়া অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮টি প্রাণহানির পর রাজ্য প্রশাসনের সামগ্রিক মানসিকতা ও পরিকাঠামো নিয়ে এ ভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের ভূমিকা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।

রবিবার ভোরে তারাপীঠের ‘বিদেশিনী’ হোটেল এবং মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ মাত্র ৪৫ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুই অগ্নিকাণ্ডে প্রকাশ্যে এসেছে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বেহাল ছবি। সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার এই ঘটনার জন্য তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক গাফিলতিকে দায়ী করলেও, দুই ক্ষেত্রেই নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত ‘শিখা ইন’ হোটেলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার দায়ের একটি অংশ স্বীকার করে কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে শহরের ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক আবাসনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে পর্যালোচনার জন্য বিল্ডিং বিভাগের কাছ থেকে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের পাশাপাশি কেএমডিএ, কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, রাজ্য দমকল বাহিনী এবং সিইএসসি-র প্রতিনিধিদের এই দলে রাখা হয়েছে। আগামী ২৫ অগস্ট থেকে ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সমস্ত বাণিজ্যিক ভবনের ট্রেড লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বৈধতা ও মেয়াদ খতিয়ে দেখতে মাঠে নামবে সিট।

এই সিটকে ঘিরেই অতীতের প্রসঙ্গ তুলে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, তদন্তের শুরুতেই রাজ্য প্রশাসনের প্রধান তথা মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কুণালের বক্তব্য, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি অগ্নিনির্বাপণ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং পরে প্রধান সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।

কুণালের প্রশ্ন, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী বা মেয়রদের যেমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, তেমনই বছরের পর বছর কোনও দফতরের নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আমলা এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা নিয়েও কি তদন্ত হওয়া উচিত নয়? তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন মেয়র বা নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে যদি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়, তা হলে অগ্নিনির্বাপণ দফতরের প্রাক্তন প্রধান সচিব কেন তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন না—সেই প্রশ্নও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও, সেই সক্রিয়তার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে কুণাল ঘোষ সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, মনোজ আগরওয়াল দীর্ঘ সময় অগ্নিনির্বাপণ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। তাই কোথায় গাফিলতি ছিল এবং কোন স্তরে কী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, সে বিষয়ে তাঁর চেয়ে ভালো আর কেউ বলতে পারবেন না। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সিটের তাঁর সঙ্গে কথা বলা উচিত বলেই মনে করেন কুণাল। তাঁর দাবি, এতে তদন্ত সঠিক দিশা পেতে পারে।


Share