Railway Route

খড়্গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন! ১৭৩ কিমি নতুন ট্র্যাক, বদলে যাবে পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ

এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খড়্গপুর রুটে রেলপথের চাপ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিষেবাও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছন্দ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৪:০৫

পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের পথে আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা খড়্গপুর থেকে ওড়িশার ভদ্রক (রণীতাল) পর্যন্ত ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ রেললাইন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খড়্গপুর রুটে রেলপথের চাপ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিষেবাও আরও দ্রুত ও স্বচ্ছন্দ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই অনুমোদনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি জানান, এই প্রকল্প শুধু রেল যোগাযোগের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে না, পূর্ব উপকূলীয় রেল করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও তা বড় ভূমিকা নেবে।

খড়্গপুর রুট দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথ। এই পথে অতিরিক্ত একটি লাইন তৈরি হলে ট্রেন চলাচলের পরিসর বাড়বে। এর ফলে ব্যস্ত করিডরের উপর চাপ কমার পাশাপাশি যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি ও সময়ানুবর্তিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকা বা রেলপথে যানজটের সমস্যাও অনেকটাই কমতে পারে।

তবে যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। নতুন লাইন চালু হলে ইস্পাত, কয়লা, লৌহ আকরিক, সিমেন্ট, গাড়ি, কনটেনার এবং খাদ্যশস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আরও দ্রুত ও বেশি পরিমাণে পরিবহণ করা সম্ভব হবে।

পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার পাশাপাশি পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী হবে। এর ফলে স্থানীয় শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিভিন্ন বন্দরও লাভবান হবে। উন্নত রেল পরিকাঠামোর মাধ্যমে কাঁচামাল পরিবহণ এবং তৈরি পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর ক্ষেত্রে সময় ও খরচ—দু’টোই কমতে পারে। একই সঙ্গে সড়কপথে পণ্য পরিবহণের উপর চাপও কমবে। বিশেষত জাতীয় সড়কগুলিতে ভারী পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, খড়্গপুর-ভদ্রক চতুর্থ রেললাইন প্রকল্প পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ও শিল্প পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রেল পরিষেবা আরও দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ হলে যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রও উপকৃত হবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ভারতীয় রেলের সম্প্রসারণের ফলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়ছে না, এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসতে পারে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নয়া মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পগুলির মাধ্যমে রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নয়া ভারত’ গড়ার ভাবনাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।


Share