Organ Smuggling

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভিনরাজ‍্যে নিয়ে গিয়ে বের করে নেওয়া হল কিডনি! গ্রেফতার পাচারকারী, অভিযুক্তেও একটি কিডনি নেই বলে দাবি পুলিশের

কিডনি নেই। এর পরেই পরিবারের সদস্যরা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার অঙ্গ পাচার-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

ধৃতের নাম প্রভাস মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১৬

মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন। হরিয়ানায় গিয়ে নিজের একটি কিডনি খোয়ালেন যুবক। বিধাননগর পুলিশের কাছে অঙ্গ পাচারের অভিযোগ দায়ের হয়। ঘটনায় এক অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তেরও একটি কিডনি নেই। ধৃতকে বুধবার আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

আক্রান্ত যুবকের নাম মঙ্গল মন্ডল। তাঁর বয়স ৩৬ বছর। মঙ্গল কলকাতার একটি গ্লাভসের কারখানায় কাজ করত। তাঁকে বেশি অঙ্কের টাকার বেতন দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় লুধিয়ানায়। সেখানে সাকিল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। রক্ত পরীক্ষা করানোর পরে সোজা হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ, মঙ্গলের শরীর থেকে একটি কিডনি বের করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বর্তমানে বিধাননগর হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর আলট্রা সোনোগ্রাফি করানো হয়েছে। তাতে শরীরে একটি কিডনি থাকার প্রমাণ মিলেছে। একটি কিডনি নেই। এর পরেই পরিবারের সদস্যরা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার অঙ্গ পাচার-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ প্রভাস মন্ডল নামে আরেক যুবককে গ্রেফতার করেছে। প্রভাস সুকান্তনগরের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলেরও একটি কিডনি নেই। প্রভাস মন্ডল অঙ্গ পাচার চক্রের মিডলম‍্যান হিসেবে কাজ করত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, অঙ্গ পাচার চক্রের শিকার হয়ে নিজেই এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। বুধবার ধৃতকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়েছে। আদালত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই অঙ্গ পাচার চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

অন্য দিকে, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মঙ্গল মণ্ডল নামের ওই যুবক। বুধবার তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে দেখতে যান রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। যুবকের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “কয়েকটা জিনিস মিলছে না। নতুন কাজের কথা হওয়ার পর আধঘণ্টার মধ্যে ট্রেনে উঠে পড়ল। বাড়ির লোক জানে না। নিজেও বলছে জামাকাপড়ও নিয়ে যায়নি।“ তিনি আরও বলেন, “যুবকের অনুমতি ছাড়া জোর করে যে কিডনি তাঁর শরীর থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে, তার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এটা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।”


Share