Calcutta High Court

আমতলায় অভিষেকের দফতর ভাঙায় ফের ‘না’ হাই কোর্টের! ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল স্থগিতাদেশ

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তবে তার আগেই আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা যাবে না।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১৫

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয় ভাঙার উপর কলকাতা হাই কোর্টের জারি করা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বহাল থাকল। বৃহস্পতিবার ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে আদালত। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তবে তার আগেই আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা যাবে না।

আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে—এই অভিযোগে গত ১৭ মে সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়। গত ১৮ জুলাই অভিষেকের দফতরের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরের দিন ফের ভাঙার কাজ শুরু হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। রবিবার ছুটির দিনেই এজলাস বসিয়ে হাই কোর্ট ওই দফতর ভাঙার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। অভিষেকের সংস্থা ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর হয়ে আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন। আদালতে তিনি জানান, ৫০৯ এবং ৫১২ নম্বর দাগের জমিতে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অথচ ভাঙার কাজ চালানো হয়েছে ৫০৭ নম্বর দাগের জমিতে, যেখানে তাঁর মক্কেলের দফতর রয়েছে। ওই জমিতে ভাঙচুরের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান আইনজীবী দত্ত।

অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের হয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সওয়াল করেন। মামলাটি নিয়ে বক্তব্য জানানোর জন্য তিনি আদালতের কাছে আরও কিছুটা সময় চান। তিনি রাজ্যকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আবেদন জানান। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ঘোষ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। আদালত জানায়, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তবে তার আগেই ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

এর আগে আদালতে অভিষেকের সংস্থা ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর আইনজীবী দাবি করেন, দফতর ভাঙার আগে তার মালিককে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। কোন অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সেই অভিযোগে কী উল্লেখ রয়েছে কিংবা কোন নথির ভিত্তিতে নির্মাণটিকে বেআইনি বলা হচ্ছে সেই তথ্যও মালিকপক্ষকে জানানো হয়নি বলে আদালতে জানান তিনি। আইনজীবীর বক্তব্য, মালিকপক্ষকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়েই দফতর ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। তাঁর দাবি, নির্মাণটি বেআইনি হয়ে থাকলেও প্রথমে মালিকপক্ষকেই তা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই দফতর ভাঙার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদই আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


Share