Anti Terrorism Squad

রাজ‍্যে ধরা পড়েছে পাক গুপ্তচর সন্দেহে একাধিক, সন্ত্রাস দমনে পৃথক শাখা গঠনের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা

বুধবার সন্ধ্যায় রাজ‍্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই পৃথক শাখা গঠনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৫

অন্যান্য রাজ্যের মতো এ রাজ‍্যও পৃথক ভাবে জঙ্গি দমন শাখা বা এটিএস তৈরি করতে চলেছে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ‍্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

রাজ‍্যে পালাবদলের পরে পাকিস্তানের জঙ্গি এবং আইএসআইয়ের গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগে একাধিক জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য এসটিএফ। অন‍্য রাজ‍্যগুলিতে জঙ্গি দমন শাখা থাকলেও পূর্বতন কোনও সরকারই পৃথক এই শাখা তৈরি করতে উদ্যোগ নেয়নি। বুধবার সন্ধ্যায় রাজ‍্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই পৃথক শাখা গঠনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, এই সন্ত্রাস দমন শাখা রাজ‍্য পুলিশের ডিজির অধীনে কাজ করবে। রাজ‍্য পুলিশের ডিজি এই শাখার যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবেন। তার নীচে আইজি, ডিআইজি এবং সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকদের রাখা হবে। সব মিলিয়ে মোট ৪৬১ জন এই শাখায় কাজ করবেন।

সন্ত্রাস দমনে প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করা হবে। সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা এড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার অত‍্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই শাখায় পাঁচ জন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকেও রাখা হবে। প্রযুক্তি সম্পর্কে অত্যন্ত দক্ষ হবেন এমন কর্মীদেরই এই শাখায় নিয়োগ করবে রাজ্য পুলিশ। তবে এই পাঁচ জনই চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করবে বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক হয়েছে।

১৯৯০ সালে মুম্বই বিস্ফোরণে প্রান হারিয়েছিল ২৫৭ জন। এক হাজার ৪০০ জন গুরুতর জখম হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় ইসলামিক জঙ্গি দাউদ ইব্রাহিম, ইয়াকুব মেনন এবং টাইগার মেননের নাম সামনে আসে। এই ঘটনার পরেই মহারাষ্ট্র সরকার জঙ্গি দমন শাখা বা এটিএস তৈরি করেছিল। তার পরে একে একে এখনও পর্যন্ত মোট ১৪টি রাজ‍্যের পুলিশের জঙ্গি দমন শাখা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশের এটিএস ২০০৭ সাল থেকে কাজ করে আসছে।

বর্তমানে এই কাজটি রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ করছে। সীমান্তবর্তী প্রায় সমস্ত রাজ‍্যে জঙ্গি দমন শাখা (এটিএস) থাকলেও এই রাজ‍্যে তা ছিল না। এই রাজ‍্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তৃণমূল জমানা একাধিক জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হয়েছিল। খাগড়াগড়ের মতো বিস্ফোরণ কান্ডের পরেও পৃথক এটিএস শাখা তৈরি করার কথা ভাবেনি রাজ্য সরকার। এ বার পালাবদলের পরে পৃথক জঙ্গি দমন শাখা গঠন করতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে রাজ‍্যে ৩৪৭ জন আইপিএস অফিসারের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে ৩১৯ জন বিভিন্ন পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২৮টি আসন খালি পড়ে রয়েছে। এই শাখা তৈরি হলে শূন্যপদগুলিতেও নিয়োগ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।


Share    

ATS