Murder Case

টোটো চালকদের মারধরে বাসকর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ, প্রতিবাদে তিন রুটে বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রীরা

বাসকর্মীদের দাবি, প্রকাশ্যে সহকর্মীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও কর্মীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বাস ধর্মঘট চলবে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০৩:৪৯

নদিয়ার শান্তিপুরে এক বাসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসকর্মী ও টোটো চালকদের মধ্যে বচসা বাধে। এর জেরে বাসকর্মী কয়েকজন টোটো চালকের মারধরের শিকার হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বাসকর্মীরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মৃতের নাম চিরঞ্জিত বিশ্বাস। তিনি শান্তিপুর থানার নৃসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। পেশায় বাসকর্মী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন টোটো চালকের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। অভিযোগ, ক্রমেই সেই বচসা বৃহৎ আকার নেয়। দুই টোটো চালক চিরঞ্জিতকে মারধর করেন। মারধরের পর তিনি ঘটনাস্থলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বাসকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় বাসকর্মীদের উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই তাঁরা থানায় গিয়ে বাসকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা। এবং তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাসকর্মীদের সাফ বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এরই অংশ হিসেবে কৃষ্ণনগর-রানাঘাট, কালনাঘাট-কৃষ্ণনগর এবং কালনাঘাট-দত্তফুলিয়া রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাস পরিষেবা বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে বহু মানুষকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে টোটো, অটো কিংবা অন্য বিকল্প পরিবহণ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেন।

বাসকর্মীদের একাংশের দাবি, “প্রকাশ্যে একজন সহকর্মীকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা এবং কর্মীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না মিললে বাস পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে না।” 

শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


Share