নদিয়ার বিজেপি নেতার তাঁতের কারখানায় আগুন, পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে, অস্বীকার শাসকদলের

নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বেলঘড়িয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গবারচর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

পুড়ে ছাই গোটা কারখানা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:১৮

নদিয়ার শান্তিপুরে তাঁতের কারখানায় বিধ্বংসী আগুন। কারখানাটির মালিক স্থানীয় এক বিজেপি নেতার। অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোরবেলা তাঁর কারখানায় পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অগ্নিকান্ডের জেরে বরাত জোরে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বিজেপি নেতা এবং তাঁর পরিবার। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আক্রান্ত বিজেপি নেতা। যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

বিজেপি নেতা পবিত্র বিশ্বাসের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর তাঁতের কারখানায় আগুন ধরিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে পেট্রলের গন্ধ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কয়েক জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁর কারখানায় পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে চম্পট। তাঁদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বরাত জোরে প্রাণে বেঁচেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, এলাকায় তিনি বিজেপি করেন। তাই অতীতেও তাঁর এবং পরিবারের ওপর একাধিক বার তৃণমূল হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পবিত্র। দিন কয়েক আগেই তৃণমূলের কয়েক জন দুষ্কৃতীরা তার বাড়িতে চড়াও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন শান্তিপুরের বিজেপি নেতা।

মঙ্গলবার ভোরে নদিয়ার শান্তিপুর থানা এলাকার বেলঘড়িয়া-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গবারচর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁতের কারখানার মালিকের নাম পবিত্র বিশ্বাস। তিনি ওই এলাকার বিজেপি নেতা বলে পরিচিত। মঙ্গলবার ভোরবেলা কারখানায় আগুন লাগার পরে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়। সেই সময় ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তার তাতের তাঁতের গোডাউনে আগুন লেগে গিয়েছে। পরিবারের দাবি, আগুন নেভানোর আগেই কারখানাটি সম্পূর্ণ ভাবে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। কারখানায় দুটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। সেইগুলিও আগুনে পুড়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা পবিত্র বিশ্বাসের দাবি, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “এই এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাছে বন্দুক বোমা মজুদ রয়েছে। প্রশাসন সব জানে। তা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।” এর পরেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা ২৪ ঘন্টা সময় দিচ্ছি। যদি দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার না হয় তাহলে গোটা শান্তিপুর ক্ষোভের আগুনে জ্বলবে। আর কীভাবে রাস্তায় নামতে হয় আমরা দেখিয়ে দেব।”

অন‍্যদিকে, যদিও বিজেপির তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে তৃণমূল। এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা বৃন্দাবন প্রামাণিক কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে কোনোও ভাবেই তৃণমূল জড়িত নয়। বিজেপির কাজ শুধু দাঙ্গা লাগানো আর আগুন লাগানো। বিজেপির কোন হুমকিতে তৃণমূল ভয় পায় না। বিজেপি আগুন লাগাতে চাইলে সেটা কীভাবে নেভাতে হয় তা তৃণমূল জানে।“

ঘটনার পরে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বিজেপি নেতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের খবর, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা যায়নি।


Share