Money Recovery

সুরেন্দ্রনাথের পর এ বার কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি স্কুল, তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার এক কোটি ৪৪ কোটি টাকা

এরপর বিধায়কের প্রতিনিধিরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে অসঙ্গতির সন্ধান পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাতেই স্কুলে পৌঁছোন বিধায়ক। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

উদ্ধার বিপুল পরিমাণ টাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁচরাপাড়া
  • শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১১:১২

আলোর জায়গায় অন্ধকারের ছোঁয়া। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে যায়। কিন্তু সেই স্কুল ও কrলেজ থেকেই বারংবার মিলছে টাকার পাহাড়। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর এ বার এমন ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার একটি ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে। সেই স্কুলে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের ‘সিক রুম’-এ থাকা একটি আলমারি থেকে কন্ডোমের প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছে।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি বীজপুর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যভাণ্ডার তৈরির কাজ শুরু করেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। সেই প্রক্রিয়াতেই সংশ্লিষ্ট স্কুল সম্পর্কে কিছু তথ্য সামনে আসে। এরপর বিধায়কের প্রতিনিধিরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে অসঙ্গতির সন্ধান পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রাতেই স্কুলে পৌঁছোন বিধায়ক। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বীজপুর থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ গণনার জন্য প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি টাকা গোনার যন্ত্র আনা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গণনার পর ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ প্রায় এক কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা গণনা সম্পূর্ণ হয় বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনা নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, স্কুলে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এই অর্থ কালো টাকা হতে পারে এবং তা স্কুলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যদিও তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে যাঁদের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁদের কারও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

অন্য দিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশচন্দ্র পাল দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ মূলত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি সংক্রান্ত ফি বাবদ জমা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “প্রায় এপ্রিল মাস থেকে অ্যাডমিশনের টাকা জমে ছিল। সেই টাকাগুলো ব্যাঙ্কে পাঠানোর কথা ছিল। এটি অ্যাকাউন্টস সেকশনের টাকা। অ্যাকাউন্টস সেকশনের কাজ ওই বিভাগই দেখা। আলমারির মধ্যে থেকে একটা কন্ডোমের প্যাকেট বেরোল। সেটা কী ভাবে ওখানে গেল, তা আমি জানি না।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস, হিসাবপত্র এবং স্কুলে এত বিপুল পরিমাণ নগদ কেন রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে স্কুলের ক্যাশিয়ার অভীক নাথ এবং সহকারী হিসাবরক্ষক সায়ন ঘোষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বীজপুর থানার পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় তাঁদের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রের দাবি।

তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট সামনে এলে নগদ অর্থ উদ্ধারের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।


Share