Sujit Basu

হাই কোর্টে ধাক্কা, এ বার সুপ্রিম কোর্টে সুজিত বসু! পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনের আর্জি নিয়ে পুজোর পর শুনানি

দ্রুত শুনানির আর্জিও জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে পুজোর আগে তাঁর মামলার শুনানি হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর ছুটির পরে সুপ্রিম কোর্ট খুললে মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুজিত বসু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৮

পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। উচ্চ আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি শীর্ষ আদালতে মামলা করেছেন। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে পুজোর আগে তাঁর মামলার শুনানি হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর ছুটির পরে সুপ্রিম কোর্ট খুললে মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ১১ মে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)  সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারির পর তিনি জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ১৩ অক্টোবর তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মন্ত্রীকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিল আদালত।

সুজিতের জামিনের আবেদনটি প্রথমে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে বিচারাধীন ছিল। গত ১৭ অগস্ট শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখেন তিনি। পরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়ায় আবেদনটি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে যায়। সেখানেই জামিনের আর্জি খারিজ হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এ বার সুপ্রিম কোর্টে গেলেন সুজিত।

ইডির অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, ওই পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের তালিকায় প্রায় ১৫০ জনের নাম রয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা সুজিতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলেও মনে করছে ইডি। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

অন্য দিকে, হাই কোর্টে জামিনের আবেদনের শুনানিতে সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি দাবি করেছিলেন, তাঁর মক্কেলকে অনৈতিক ভাবে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও সুজিতকে জেলে রাখার যৌক্তিকতা নেই। ইডি তাঁর গ্রেফতারিকে যুক্তিসঙ্গত বলে প্রমাণ করতে পারছে না বলেও সওয়াল করেছিলেন তিনি।

তবে হাই কোর্টে স্বস্তি মেলেনি প্রাক্তন মন্ত্রীর। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে তাঁর আইনি শিবির। পুজোর ছুটির পর শীর্ষ আদালতে শুনানি হলে জামিনের আবেদনে কী সিদ্ধান্ত হয়, সে দিকেই নজর রয়েছে।


Share