weather Disaster

শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরবঙ্গ, ক্ষতির শিকার চাষিরা

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে বেলায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়। এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল। ঝড়ের দাপটে বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাড়িও ভেঙে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বালুরঘাট অমৃত ভারত স্টেশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডুয়ার্স
  • শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৪:৩৩

ডুয়ার্সে ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি। এর ফলে তছনছ হয়ে গেল জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। ঝড়ের কারণে উড়ে গিয়েছে বহু বাড়ির চাল। জলপাইগুড়ির পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট রেল স্টেশনেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে স্টেশনের শেডের অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলও। দিশেহারা চাষিরা।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে বেলায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়। এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল। ঝড়ের দাপটে বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাড়িও ভেঙে পড়েছে। সূত্রের খবর, ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাট এলাকার কেরানিপাড়ায় দশটি বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বড় গাছ উপড়ে পড়ে বাড়ির ওপর। ঘরবাড়ির পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্রও। তবে এই ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির খবর মেলেনি। ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন পোল্টি ফার্মের শেডেও ক্ষতি হয়েছে।

বহু জায়গায় তার ছিঁড়ে পড়ার কারণে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ-এর সমস্যা তৈরী হয়েছে। অন্য দিকে চালসা সংলগ্ন মহাবাড়ি এলাকায় ঝড়ের দাপটে রাস্তার উপরে গাছ ভেঙে পড়ায় রাত থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকাতেও ২০-২৫ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকাল হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির উপর পড়ে থাকা গাছ কেটে সরানোর কাজে নেমে পড়েন।

উত্তরবঙ্গে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এলাকার কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় গতরাত থেকে অবিরাম বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জেরে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি এখন জলের তলায়। খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আলু, শিম, মটরশুঁটি। আগে থেকেই আলুর বাজার দর নিয়ে চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা, তার উপরে এই দুর্যোগ তাঁদের আরও দিশেহারা করে তুলেছে।

বৃহাস্পতিবার রাতে শিলাবৃষ্টির তীব্রতার কারণে অনেক বাড়ির টিনের চাল যেমন উড়ে গিয়েছে তেমনই ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে অধিকাংশ বাড়ি। ফলে বাড়ির ছাদ হারিয়ে অনেক পরিবার রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নীচে। সকাল পর্যন্ত এলাকায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। আকাশে এখনও ঘন কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে। ফলে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা এখন প্রশাসনের ত্রাণ ও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।


Share