Nabanna

আন্তর্জাতিক মানের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি, পুণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত-থাকা-খাওয়ার পরিকল্পনা নবান্নের

কলকাতা থেকে কপিলমুনি আশ্রম পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতায়াত থেকে শুরু করে থাকা, খাওয়া, পানীয় জল এবং পুণ্যস্নান—সব ক্ষেত্রেই বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

নবান্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:১৮

‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’—এই পরিচিত প্রবাদকে সামনে রেখেই গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড়সড় পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। কলকাতা থেকে কপিলমুনি আশ্রম পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতায়াত থেকে শুরু করে থাকা, খাওয়া, পানীয় জল এবং পুণ্যস্নান—সব ক্ষেত্রেই বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য প্রায় ২০ লক্ষ অত্যাধুনিক টেন্ট তৈরির ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সিসিটিভি এবং আকাশপথে হেলিকপ্টার। জলপথেও চলবে বিশেষ নজরদারি। এই কাজে রাজ্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এবারের মেলায় আলাদা করে কোনও ভিআইপি ব্যবস্থা না রাখার ভাবনা রয়েছে প্রশাসনের।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই এবার মেলার পরিকাঠামো ও পরিষেবায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয়, রাজ্যে প্রবেশের পর থেকে পুণ্যস্নান সেরে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথকে একটি সমন্বিত পরিষেবার আওতায় আনতে চাইছে নবান্ন। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হবে বাসের সংখ্যা। নদী পারাপারের জন্য অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়। ভারতীয় রেলের তরফে বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বিনামূল্যে রেলযাত্রার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর।

পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অস্থায়ী শিবির ও টেন্ট তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবে পানীয় জল, স্নান এবং আহারের ব্যবস্থা। ভাণ্ডারায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পুণ্যস্নানের জন্য বাড়ানো হবে ঘাটের সংখ্যা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থার পাশাপাশি কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। মেলা চত্বরে থাকবে অত্যাধুনিক অনুসন্ধান কেন্দ্র, সচিত্র পরিচয়পত্র এবং প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক। পুণ্যার্থীদের সমস্যা দ্রুত মেটাতে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হবে সহায়তা কেন্দ্র।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সিসিটিভি ও এআইয়ের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১০টি হেলিকপ্টার রাখার কথা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। আকাশপথের পাশাপাশি জলপথেও রাজ্য ও সেনাবাহিনীর যৌথ নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে। মেলা চলাকালীন ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানোর পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট দফতর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। মেলার আয়োজন সফল করতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে বলেও নবান্ন সূত্রে খবর।

গঙ্গাসাগর মেলা বাংলার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম বড় পরিচয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হলেও পরিবহণ, থাকা, পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যার অভিযোগ ওঠে। এবার সেই ছবিতে বদল আনতেই একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। লক্ষ্য, সাধারণ পুণ্যার্থী থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি—সকলের জন্য একই পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে গঙ্গাসাগর মেলার পরিচিতি আরও বাড়ানো। তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা হয়, পরিষেবার মান কতটা বজায় থাকে এবং বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর প্রত্যাশা কতটা পূরণ করা সম্ভব হয়, তার উত্তর মিলবে মেলার সময়ই। আপাতত নজর নবান্নের প্রস্তুতির দিকে।


Share