Santanu Sen

‘আর দুর্নীতিকে সমর্থন করতে মন চাইছে না,’ দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন

চিকিৎসক নেতা একটি ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “আমি তৃণমূলে জন্মলগ্ন থেকেই ছিলাম। দল আমাকে যেমন যে দায়িত্ব দিয়েছে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে গিয়েছি। দল আমাকে জাতীয় মুখপাত্র করেছিল।”

ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৩:৫৯

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, আরজি কর নিয়ে আর দলের পক্ষ নেওয়া যাচ্ছে না। মন আর এই কাজে সায় দিচ্ছে না। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চিকিৎসক নেতা তথা রাজ‍্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। ইস্তফাপত্র ইতিমধ্যেই তিনি তৃণমূলনত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শান্তনু।

বৃহস্পতিবার শান্তনু সেন চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষ চাকরি বিক্রি, আরজি কর কান্ড, দুর্নীতি-সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের জন্য নির্বাচনে তৃণমূলকে প্রত‍্যাখান করেছে। তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা একটি ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “আমি তৃণমূলে জন্মলগ্ন থেকেই ছিলাম। দল আমাকে যেমন যে দায়িত্ব দিয়েছে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে গিয়েছি। দল আমাকে জাতীয় মুখপাত্র করেছিল।” তার জন‍্য তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনুর কথায়, এমন অনেক ঘটনা আছে যা সমর্থন করাই যায় না। এমন ঘটনাকে সমর্থন জানাতে তাঁর মন তাতে সায় দেয় না। সেই সমস্ত ঘটনা সাধারণ মানুষ সমর্থন করতে পারে না। বলেন, “তা জেনেও দলের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে সংবাদমাধ্যমের কাছে তৃনমূলের পক্ষ নিয়ে লড়াই করে গিয়েছি। তা নিয়ে সাধারণ মানুষ আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছেন। সেসব কথা আমাকে হজম করতে হয়েছে।” 

এর পরেই শান্তনু মনে করেন, রাজনীতিটা মানুষের জন্য করি। সেই মানুষ ৪ মে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। চাকরি চুরি, আরজি কর কান্ড, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা রায় দিয়েছেন। তখন সেই রায়কে মাথা পেতে নিয়ে হার স্বীকার করা উচিত। তাই এই হারকে তিনি মাথা পেতে নিয়েছেন। এর পরেই তিনি বলেন, “এই দুর্নীতিগুলিকে সমর্থন করতে আমার মন আর কোনও ভাবেই সম্মতি দেয় না যে। তাই আমি তৃণমূলের সভানেত্রী তথা এই রাজ‍্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।”

উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন রাজ্য সরকারকে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। বুধবার তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে আরজি কর-কাণ্ড সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি তুলে ধরতে প্রস্তুত। শান্তনুর কথায়, ‘মেয়ের কেরিয়ারের কথা ভেবে মুখ বন্ধ রেখেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তাকে আরজি করের ঘটনা নিয়ে অনেক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারি। মেয়ে এখন ডাক্তার হয়ে গিয়েছে। আমার আর কোনও পিছুটান নেই।’

বুধবার একাধিক সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শান্তনু সেন। চিকিৎসক অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, সুদীপ্ত রায় এবং আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। শান্তনুর দাবি, অতীতেও সন্দীপ ঘোষের নানা অনিয়ম ও কুকীর্তির কথা তিনি সামনে এনেছিলেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘সেদিন আমার দেওয়া তথ্য সঠিক ভাবে দেখা হলে, এ দিনের সামনা সামনি হতে হতো না।’


Share