High Court On Mukul Roy

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করল হাই কোর্ট, বিধানসভার অধ‍্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তও খারিজ

মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে মামলা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই মামলা শুনবে কলকাতা হাই কোর্ট।

মুকুল রায়ের বিধায়ক পর খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৪:০৩

কৃষ্ণনগরের বিধায়ক মুকুল রায়ের পদ খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। এর পাশাপাশি বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল প্রসঙ্গে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা-ও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। মুকুল রায় কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক ছিলেন। তাঁর পদ খারিজ হওয়ায় ওই আসন খালি হয়ে গেল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তাই ওই আসনে এই মুহূর্তে নতুন করে আর উপনির্বাচন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল। প্রায় ৫০ হাজার ভোটে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুল খাতায়কলমে বিজেপি বিধায়ক হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিজেপি এ বিষয়ে অভিযোগ জানালে স্পিকার জানিয়ে দিয়েছিলেন, মুকুল বিজেপিতেই আছেন। তাই তাঁর পদ খারিজ করা যাবে না। এমনকি, তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। সাধারণত, ওই পদে বিরোধী দলের সদস্যকে বসানো হয়।

এর পরেই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে মামলা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই মামলা শুনবে কলকাতা হাই কোর্ট। এর পর শুভেন্দুরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। মুকুল পিএসি চেয়ারম্যান পদে কেন থাকবেন, তা নিয়েও আপত্তি তুলে পৃথক মামলা করেছিলেন অম্বিকা রায়। দু’টি মামলার শুনানি হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করল। দলত্যাগ বিরোধী আইনে খারিজ করা হল মুকুলের বিধায়ক পদ। 

হাই কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন শুভেন্দু। একে ‘সংবিধানের জয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দেশের সংবিধান জিতেছে। বিধানসভার তৃণমূলের অধ্যক্ষ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় হয়েছে। আবার প্রমাণ হল, বিজেপি সংবিধান রক্ষার জন্য লড়াই করে।’’ সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘‘এটা ঐতিহাসিক রায়। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের রায় প্রথম। সম্ভবত ভারতেও প্রথম। দলত্যাগের কারণে কলকাতা হাই কোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দিয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসাবে আমি মামলা করেছিলাম। হাই কোর্ট বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশও খারিজ করেছে। দেরিতে হলেও সত্যের জয় হল। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করল।’’

২০২১ সালের ভোটপর্ব মিটতেই মুকুল তৃণমূলে ফিরে এসেছিলেন। বিধায়ক পদ না-ছাড়ায় পিএসি চেয়ারম্যান পদেও থেকে যেতে পেরেছিলেন। বিজেপির আপত্তি টেকেনি সে ক্ষেত্রে। তবে এ বার দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করা হল মুকুলের বিরুদ্ধে। যদিও মুকুল দীর্ঘ দিন অসুস্থ। বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেক আগেই তিনি দূরে সরে গিয়েছেন।


Share