CCTNS

শীঘ্রই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে সমস্ত মামলার এফআইআর! কলকাতার সমস্ত ডেপুটি কমিশনারকে সময় বেধে দিল লালবাজার

যদি কোনও ঘটনাকে ‘সংবেদনশীল’ বলে এফআইআরের কপি না দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজের পরিচয় প্রকাশ করে জেলা পুলিশের সুপার বা সমপদমর্যাদার আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন। শহর এলাকার ক্ষেত্রে এই অভিযোগ পুলিশ কমিশনারের কাছে করা যাবে।

কলকাতা পুলিশের সদর দফতর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ১২:২০

শীঘ্রই ‘ক্রাইম অ‍্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ‍্যান্ড সিস্টেম’ বা সিসিটিএন পোর্টালে মিলবে সমস্ত থানার এফআইআর কপি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল জমানায় পদক্ষেপ এ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পালাবদল হতেই তা এ বার কার্যকর হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগের যাবতীয় কাজ খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে কলকাতা পুলিশের সমস্ত ডেপুটি কমিশনারদের লালবাজার নির্দেশ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশেষ অভিযোগ বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত এফআইআর সিসিটিএনএস পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। দেশের সমস্ত রাজ‍্যের পুলিশ তা কার্যকর করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল জমানায় কেন্দ্র-রাজ‍্য সংঘাতের কারণে বিভিন্ন কাজ থমকে গিয়েছিল। সেই কাজগুলির মধ্যে এই কাজটিও রয়েছে। পালাবদলের পরে আইনে যা বলা হয়েছে বা সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশিকা রয়েছে তা মেনেই পুলিশকে কাজ করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বার তা কার্যকর করতে তৎপরতা শুরু হল। 

লালবাজার সূত্রের খবর, এই নিয়ে দফায় দফায় পুলিশকর্তারা বৈঠক সেরে নিয়েছেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল সমস্ত ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনারদের এই সংক্রান্ত নির্দেশও জারি করেছেন। এই বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার কুনাল আগরওয়াল জানান, সমস্ত কিছু ঠিকঠাক করতে একমাসের মতো সময় লাগবে। তার পর থেকে নিয়মিত ভাবে সিসিটিএনএস পোর্টালে এফআইআর নথি আপলোড করা হবে। মানুষ তা দেখতে পাবেন। কলকাতা পুলিশের এই সংক্রান্ত তথ‍্য পেতে ‘বন্ধু পোর্টাল’-এর ওপর ভরসা করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ, সেখানেও নিয়মিত ভাবে এফআইআর কপি আপলোড করা হচ্ছে না। সেই বিষয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল বলেন, “সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

পুলিশ সূত্রের খবর, সিসিটিএনএস পোর্টালে মূলত পাঁচটি ফর্ম থাকে। কোনও এফআইআর কপি আপলোড করার আগে পুলিশই সেই ফর্ম পূরণ করে। ফর্ম-১: এফআইআর কপির জন‍্য, ফর্ম-২: অপরাধস্থল সংক্রান্ত তথ্যের জন্য, ফর্ম-৩: ওই মামলায় কত জন গ্রেফতার হয়েছে, ফর্ম-৪: মামলার তদন্ত চলাকালীন কী কী বস্তু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, ফর্ম-৫: মামমলার চার্জশিটের জন‍্য। কী ভাবে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানার আধিকারিকেরা তথ‍্য সিসিটিএনএস-এ আপলোড করবেন তা নিয়ে নির্দেশিকাও ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

‘ইউথ বার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে গত ২০১৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাতে বলা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার ক্রাইম অ‍্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ‍্যান্ড সিস্টেম প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইনে অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সব রাজ্যকে সহায়তা করছে। 

শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, প্রতিটি এফআইআর রেজিস্টার হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। যদি পুলিশের নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকে তবে রাজ্য সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করতে হবে। এর ফলে অভিযুক্ত বা অভিযোগকারী সেই কপি ডাউনলোড করে আইন অনুযায়ী আদালতে আবেদন করতে পারবেন। এফআইআর কপি আপলোড করার জন‍্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন। তাই ইন্টারনেট সংযোগজনিত সমস্যা বা অন্য কোনও অনিবার্য অসুবিধা যদি দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে এফআইআর আপলোড করার সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। যদি ভৌগোলিক কারণে সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো যাবে বলেও শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল।

ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, বিদ্রোহ, পকসো আইনের অধীনে দায়ের হওয়া এফআইআর এটা থেকে ছাড় রয়েছে। কেন এফআইআর আপলোড করা হল না, কেনই এটা ‘সংবেদনশীল’ তার ব্যাখ্যা দিতে হবে পুলিশের পদস্থ কর্তাকে। পুলিশের পদস্থ কর্তা কোনও ভাবেই ডেপুটি সুপার পদমর্যাদার আধিকারিকের নীচে হবে না। যেসব রাজ্যে শুধুমাত্র জেলাশাসকের ভূমিকা রয়েছে, সেখানে তিনিও এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করতে হবে।

যদি কোনও ঘটনাকে ‘সংবেদনশীল’ বলে এফআইআরের কপি না দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজের পরিচয় প্রকাশ করে জেলা পুলিশের সুপার বা সমপদমর্যাদার আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন। শহর এলাকার ক্ষেত্রে এই অভিযোগ পুলিশ কমিশনারের কাছে করা যাবে। এরপরে পুলিশ সুপার বা কমিশনারকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে। কেন তিনি এফআইআর কপি পাবেন না তা তিন দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। তার পরেও যদি আবেদনকারী এফআইআর কপি না পান তাহলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। আদালতের নির্দেশের তিন দিনের মধ্যে এফআইআর কপি আবেদনকারীর হাতে তুলে দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ ছিল, সমস্ত রাজ্যে এফআইআর কপি অনলাইনে আপলোড করার এই ব্যবস্থা ২০১৬ সালে ১৫ নভেম্বর থেকে কার্যকর করতে হবে। কয়েক বছর কেটে গেলেও শীর্ষ আদালতের নির্দেশ এ রাজ্যে কার্যকর হয়নি। বিগত কয়েক বছরে পুলিশ নিজস্ব ওয়েবসাইটে এফআইআর আপলোড করা শুরু করেছে। অভিযোগ, তা অনলাইনে প্রকাশিত হতে ৭২ ঘন্টা নয় এক এক সময় এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগছে।


Share