School Service Commission

‘দাগি’ মামলাকারীদের জেরে ২৬ হাজার প্যানেল বাতিল! ফের আদালতের পথে তথাকথিত ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা

এসএসসি ২০১৬-র ২৬ হাজার প্যানেল বাতিল ঘিরে নতুন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। টেন্টেড মামলাকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, নিয়োগ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় বাড়ছে উদ্বেগ।

স্কুল সার্ভিস কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৭

স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের প্রায় ২৬ হাজার নিয়োগ প্যানেল বাতিলের প্রেক্ষিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তথাকথিত ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। অভিযোগ, এই মামলার মূল আবেদনকারীদের অনেকেই নিজেরাই ‘টেন্টেড’ বা দাগি হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মামলার জেরেই গোটা প্যানেল বাতিল হয়েছে।

এ দিকে, কর্মরত ‘যোগ্য’ ১৩,৮০০ শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে একাদশ-দ্বাদশ ও নবম-দশম স্তরে দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষক নানা কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় কাট-অফ মার্কস অর্জন করতে পারেননি। ফলে তাঁদের নাম এসএসসি-র ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ‘কলড ফর ভেরিফিকেশন’ তালিকাতেও নেই বলে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, আগামী ২১ জানুয়ারি একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের মেধাতালিকা প্রকাশের লক্ষ্য রেখেছে এসএসসি। তবে তার পরেও বহু ‘যোগ্য’ প্রার্থীর নাম প্যানেলে না-থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার এসএসসি ‘টেন্টেড’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করার পর ফের মামলার উদ্যোগ নিয়েছে ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’।

সংগঠনের তরফে কর্মরত দুই শিক্ষক রাকেশ আলম ও সঙ্গীতা সাহা জানান, ইতিমধ্যেই তাঁরা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যর্থ বা কাট-অফ না-পাওয়া এবং দাগি প্রার্থীদের করা মামলার ভিত্তিতে কী ভাবে যোগ্যদের নিয়োগ বাতিল হতে পারে, তা নিয়েই আইনি প্রশ্ন উঠছে। কোন পথে আবার আদালতে যাওয়া যায়, তা শিগগিরই আইনজীবীদের সঙ্গে চূড়ান্ত করা হবে।

সঙ্গীতা সাহা আরও জানান, একাদশ-দ্বাদশে প্রায় ৪০০ এবং নবম-দশমে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন কর্মরত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সফল হননি। তাঁদের ওকালতনামায় সই করানো হচ্ছে। অনেকেরই বয়স ৪৫ বছরের বেশি এবং এ বারই শেষবারের মতো বয়সের ছাড় পেয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন। ভবিষ্যতে আর সেই সুযোগ মিলবে না। তাই নন-টেন্টেড শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কলকাতা হাই কোর্টে ‘প্রোটেকশন’ চেয়ে আবেদন জানানো হবে।

‘যোগ্য’দের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাঁদের নাম এখন ‘টেন্টেড’ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, তাঁদের আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতো তাঁদেরও যাতে বয়সের ছাড় দেওয়া হয়। তবে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

রাকেশ আলমদের দাবি, অতীতেও একাদশ–দ্বাদশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগে নম্বর বাড়িয়ে তালিকায় থাকার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় প্রথমে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতার নিয়োগ বাতিল করে ববিতা সরকারকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অঙ্কিতাকে বেতন ফেরত দিতে বলা হয়েছিল। যদিও পরে ববিতা সরকারের নিয়োগেও অনিয়ম ধরা পড়ায় তাঁর চাকরিও বাতিল করে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।


Share