Murder

নিখোঁজ আয়ার কঙ্কালসার দেহ পরিত্যক্ত আবাসনে, নুন ঢেলে লাশ লুকোনোর অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী

পুলিশ সুত্রের খবর অনুযায়ী, পুলিশ মৃতার স্বামীকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছবির রহস্যমৃত্যুর তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এক পদস্থ কর্তা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৭

কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিল দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের এক আয়া। অবশেষে মঙ্গলবার ইস্পাতনগরীর পরিত্যক্ত একটি আবাসন থেকে তাঁর কঙ্কালসার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয় এলাকাজুড়ে। খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে আয়ার স্বামী প্রদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মৃত আয়ার নাম ছবি দাস(৫৫)। তিনি ইস্পাত কারখানায় কাজ করতেন। আয়ার স্বামী আগে ঠিকাশ্রমিকের কাজ করলেও বর্তমানে তেমন কিছু করেন না। তাদের কোনোও সন্তান ছিল না। দুর্গাপুর থানার সেক্টর-ডি মার্কেটের কাছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ের ঠিক পাশেই একটি পরিত্যক্ত আবাসনে থাকতেন ওই দম্পতি। মঙ্গলবার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তেই ওই আবাসনের একটি ঘরে ঢুকে চমকে যান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁরা দেখেন, একটি কঙ্কালসার দেহ পড়ে রয়েছে ঘরে।

এই ভয়াবহ খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। খোঁজ শুরু হয় ছবির স্বামীর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রদীপই স্ত্রীকে খুন করেছেন।

জানা গিয়েছে, দ্রুত পচন না ধরা ও দুর্গন্ধ আটকানোর জন্য মৃতার দেহে নুন ঢালার এই পন্থা অবলম্বন করেছিল খুনি। প্রতিবেশীরা জানান, ওই দম্পতির মধ্যে বড় কোনও গন্ডগোল ছিল না। তবে দিন কয়েক আগে তাঁদের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। আর সেটিকে দাম্পত্যকলহ ভেবেছিল পরিবারের লোকজনেরা। ছবির এক সহকর্মী জানান, কিছু দিন ধরে আর্থিক সংক্রান্ত বিষয়ে চাপে ছিলেন মৃতা। তিনি বলেন, ‘‘ছবি খুবই ভাল মহিলা। কয়েক মাস ধরে স্বামীর সঙ্গে ওর টাকাপয়সা নিয়ে কিছু গোলমাল ছিল। আমার মনে হয়, সেখান থেকেই গন্ডগোল হয়। ছবিকে ওর স্বামী মেরে ফেলেছে।’’

পুলিশ সুত্রের খবর অনুযায়ী, পুলিশ মৃতার স্বামীকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছবির রহস্যমৃত্যুর তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এক পদস্থ কর্তা।


Share