Tulu Mondal

অধরা ‘পাথর সম্রাট’ টুলু, সিউড়ির বাড়িতে নোটিশ সাঁটাল প্রশাসন! শুক্রবার হাজিরা, নইলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে সম্পত্তি

নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে টুলুকে সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।

অধরা টুলু মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৮

বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবউদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড কর্নার’ নোটিশও রয়েছে। এ বার তাঁর বাড়িতে প্রশাসন হাজিরার নোটিশ সাঁটিয়ে দিল। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে টুলুকে সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে এখনও অধরা ‘পাথর সম্রাট’ টুলু। তিনি কোথায় রয়েছেন, তদন্তকারীরা তা এখনও জানতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে সিউড়ির সুভাষপল্লি এলাকায় টুলুর বাড়িতে গিয়ে প্রশাসন নোটিশ সাঁটিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।

টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় আদালতের নোটিস সাঁটানো এবং মাইকিং করে তা ঘোষণা করার পরিকল্পনা নেয় পুলিশ প্রশাসন। সেই অনুযায়ী বুধবার পাথর খাদান এলাকায় টুলুর আদালতে হাজিরার নোটিসের কথা ঘোষণা করা হয়। এ বার বৃহস্পতিবার সকালে সিউড়ির সুভাষপল্লিতে টুলুর বাড়ির বাইরেও সাঁটানো হল সেই নোটিস।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ প্রশাসনের আধিকারিকেরা টুলুর বাড়ির সামনে পৌঁছোন। সেখানে আদালতের জারি করা ইংরেজিতে ছাপা হাজিরার নোটিশ সাঁটানো হয়। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় একটি ‘বিশেষ ঘোষণা’-ও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ওই ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংগঠিত অপরাধ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। কিন্তু এখনও তাঁর সন্ধান মেলেনি। অভিযোগ, গ্রেফতারি এড়াতে তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সিউড়ি আদালত তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নোটিশে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে টুলুকে সিউড়ি আদালতে সশরীরে হাজির হতে হবে।

সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা। এই বিপুল সম্পদ উদ্ধারের পর থেকেই টুলু মন্ডল তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন। তাঁর কোথায় কোথায় সম্পত্তি রয়েছে, তা খুঁজে দেখতে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। টুলুর একাধিক ঠিকানায় হানা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও তদন্তকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার’ নোটিশ জারি করা হয়। ওই দিন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, টুলু আদালতে হাজিরা না দিলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি পদক্ষেপও শুরু হতে পারে।


Share