ব্যস্ত রাস্তায় বেপরোয়া গতি, একই দিনে পশ্চিম বন্দরের পৃথক ঘটনায় নাবালকের মৃত্যু, জখম পাঁচ জন, পুলিশের নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

লালবাজারের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ অগস্ট দু’টি ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ গার্ডেনরিচ উড়ালপুলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে একটি স্কুটি কোনও ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৬

একই দিনে এক ঘন্টার ব্যবধানে একই থানা এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা। ব‍্যস্ত রাস্তায় বেপরোয়া গতির জেরে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিম বন্দর থানায় পৃথক দু’টি ঘটনায় এক নাবালকের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছে পাঁচ জন। ঘটনাচক্রে মৃত এবং আহত— কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। এর পরেই পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লালবাজারের দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ অগস্ট দু’টি ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ গার্ডেনরিচ উড়ালপুলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে একটি স্কুটি কোনও ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারায়। তার পাশে ছিটকে পড়ে। ওই ঘটনায় মহম্মদ ইউসুফ খান (১৬) এবং আসাদ আহমেদ খান নামে (১৫) দুই নাবালক জখম হয়। তাঁদের উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ইউসুফকে বাঁচানো যায়নি। গুরুতর জখম অবস্থায় আসাদ এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে।

অন‍্য দিকে, ওই দিনই একই থানার এলাকা, হাইড রোডে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে নাগাদ দু’টি মোটরবাইক দ্রুত গতিতে এসে মুখোমুখি ধাক্কা মারে। দু’টি মোটরবাইকের চালকই ছিটকে পড়েন। ঘটনায় চালক-সহ আরোহীরা গুরুতর জখম হয়েছেন। জখম যুবকদের নাম, শুভ বণিক (২২), দীপক সাউ (২৪), সুরজ সাউ (২৫) এবং রোহন বিং (২৫)। গুরুতর জখম অবস্থায় চার জনকেই উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে শুভকে জোকা ইএসআই হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাঁদের সকলেই আঘাত গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

লালবাজার জানিয়েছে, এদের কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না। দু’টি ঘটনার ক্ষেত্রেই মোটরবাইকের গতি বেশি ছিল। তার ওপর মৃত ইউসুফ নাবালক ছিল। কী করে নাবালক বিনা লাইসেন্স এবং হেলমেট ছাড়া রাস্তায় উঠতে পারে, সে ক্ষেত্রে পুলিশের নজরদারি আদৌ ছিল কি না তা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে ট্রাফিক আইন কঠোর ভাবে মেনে চলার বার্তা দিয়েছিল। কয়েক দিন আগে ঘটা করে ‘পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ’ পালন করা হয়েছে। বিলি করা হয়েছে হেলমেটও। কমিশনার থেকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রীরাও সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে কড়া পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন। লালবাজার তা নীচু তলায় পৌঁছে দিয়েছিল।

ট্রাফিক পুলিশকে নিশানা করে স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতি রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ করা যাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তাঁদেরই দেখা মেলে না। নির্বিঘ্নে বিনা হেলমেটের পশ্চিম বন্দর থানার এলাকায় মোটরবাইক চালকদের দৌরাত্ম্য এখনও অব্যাহত রয়েছে। তাহলে কী পুলিশ শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ নীচু তলায় বাস্তবায়ন করতে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


Share