NRS Hospital

এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত‍্যু, শৌচাগার থেকে উদ্ধার দেহ, ঘটনাস্থলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডাকা হয়েছে গোয়েন্দাদের

খবর পেয়ে এনটালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। ডাকা হয় লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দাদের। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেই পুলিশ জানিয়েছে।

মৃতের নাম রূপালী বর্মন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ০১:০৯

এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত‍্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃতের নাম রূপালী বর্মন (৩০)। হাসপাতালের শৌচাগার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি দমদমের বাসিন্দা। কী কারনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, শরীরে কোনও ইঞ্জেকশন দেওয়ার কারনে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পৌঁছেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, রাত ৮টা থেকে ওই নার্সের নাইট শিফট ছিল। রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি স্ত্রীরোগ বিভাগে এইচডিইউ ওয়ার্ডের কর্মরত ছিলেন। সেখানকার শৌচাগারে তিনি যান। প্রায় সাত মিনিট পরেও রূপালী না ফিরলে সহকর্মীরা তাঁকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। শৌচাগারের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর কোনও উপায় না দেখে মহম্মদ শামসের আলম এবং ২০ শ্রেয়া গায়েন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। তাঁরা ওই নার্সকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে এনটালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। ডাকা হয় লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দাদের। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেই পুলিশ জানিয়েছে। কোনও সুইসাইড নোটও তাঁর কাছ থেকে মেলেনি বলেও জানিয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল। এন্টালি থানায় একটি রহস‍্যমৃত‍্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। দেহ ইনকোয়েস্ট এবং ময়নাতদন্তের জন‍্য পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, নার্সের হাতের শিরায় হাতায় ইঞ্জেকশন নেওয়ার কিচ্ছু চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ফেন্টানিল ইঞ্জেকশন নিয়েছেন বলে মনে করছে চিকিৎসকেরা। রোগীকে ঘুম পারানোর জন‍্য ফেন্টানিল ব‍্যবহার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


Share