Murder

মা-ভাইকে খুনের আগে চ্যাটজিপিটি-তে ‘সিনেমার মতো খুনের’ খোঁজ! গ্রেফতার আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৭ বছরের কিশোর

অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের আগে সে চ্যাটজিপিটি-তে খুন সংক্রান্ত নানা তথ্য খুঁজেছিল। অভিযুক্তের মোবাইলের সার্চ হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরাও হতবাক।

অভিযুক্ত কিশোর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫০

আমেরিকায় নিজের মা ও ভাইকে খুনের অভিযোগ উঠল ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক কিশোরের বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের আগে সে চ্যাটজিপিটি-তে খুন সংক্রান্ত নানা তথ্য খুঁজেছিল। অভিযুক্তের মোবাইলের সার্চ হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরাও হতবাক। তদন্তকারীদের দাবি, মা ও ভাইকে হত্যার আগে অভিযুক্ত কিশোর চ্যাটজিপিটি-তে সিনেমার মতো করে কী ভাবে খুন করা যায়, সেই সংক্রান্ত প্রশ্ন করেছিল। তার অনলাইন সার্চ ও চ্যাটের তথ্যই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে। ঘটনার পর তদন্তকারীরা অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করছেন। হত্যাকাণ্ডের আগে তার মানসিক অবস্থা, উদ্দেশ্য এবং অনলাইনে কী ধরনের তথ্য সে সংগ্রহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের। অভিযুক্ত কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ (১৭)। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অর্জুনের বাবা তাঁর স্ত্রীকে একাধিক বার ফোন করলেও কোনও সাড়া পাননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি অর্জুনের গৃহশিক্ষককে তাঁদের বাড়িতে পাঠান। গৃহশিক্ষক সেখানে পৌঁছে বেশ কয়েক বার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে অর্জুনের বাবাকে বিষয়টি জানান। এরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তদন্তকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে অর্জুনের মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছরের ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে তাঁরা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে অর্জুনের দিকেই। কিন্তু ততক্ষণে সে নিখোঁজ। এরপরই অভিযুক্ত কিশোরের সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে।

অবশেষে বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের দাবি, খুনের পর মায়ের গাড়ি নিয়ে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে কী কারণে সে এই কাণ্ড ঘটাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের আরও দাবি, খুনের আগে অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিতে একাধিক প্রশ্ন করেছিল। তার মধ্যে ছিল, সিনেমার মতো করে খুনের পদ্ধতি কী হতে পারে এবং সিনেমার কায়দায় কী ভাবে গল্প তৈরি করা যায়—এই ধরনের প্রশ্নও। বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


Share