Mukul Roy

মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, বিধানসভার স্পিকার এবং শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হল নোটিস

মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুকুল রায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায়।

মুকুল রায়ের বিধায়কপদের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৮

মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত। কলকাতা হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায় মামলাটি করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং জয়মাল‍্য বাগচীর বেঞ্চ হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়কে নোটিস জারি করেছে। তাঁদেরকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টে শুভ্রাংশু রায়ের দায়ের করা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুকুল রায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন মুকুল রায়। তাঁর আইনজীবী জানান, তিনি মামলা লড়তে চান। সুপ্রিম কোর্ট সব দিক বিবেচনা করেছে। তার পরেই হাই কোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে বিপুল ভোটে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু তার পরে তৃণমূলে যোগ দেন। তবে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গেলেও খাতায় কলমে বিজেপির বিধায়ক থেকে গিয়েছিলেন। বিধায়কপদ খারিজ করা বিধানসভার স্পিকারের কাছে বিজেপি অভিযোগ জানায়। কিন্তু স্পিকার জানিয়ে দেন, তিনি বিজেপিতেই আছেন। তাঁই তাঁর পদ খারিজ করা যাবে না। তাঁকে পাবলিক অ‍্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। এই পদে সাধারণ বিরোধী দলের সদস্যকে বসানো হয়। এর পরেই মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজ করতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

গত ১৩ নভেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট দলত‍্যাগ বিরোধী আইনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পদ আদালত খারিজ করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ এই পদ খারিজের ক্ষমতা একমাত্র বিধানসভার স্পিকারের হাতেই রয়েছে। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মুকুল রায়ের দলত‍্যাগ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাই দীর্ঘদিন ধরে মামলা হাই কোর্টে ঝুলে ছিল। এর পরেই স্পিকারের সিদ্ধান্তকে খারিজ করে দিয়ে মুকুল রায়ের বিধায়কপদ বাতিল করে দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।

মুকুল রায়ের পুত্র এখন তৃণমূলে। বিধানসভা নির্বাচনের পরে বাবার সঙ্গেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তিনি বিধায়কপদ খারিজের হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। শুক্রবার সেই মামলায় হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।


Share