Mamata Banerjee

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে, জ্বালানি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জরুরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে যে আচমকা সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতেই এই বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে এবং খাদ্য দফতরের সচিব-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৮:২৬

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গেও। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিকেলে গ্যাস ও জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলিপুরের সৌজন্য প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিনটি তেল সংস্থার প্রতিনিধি ও গ্যাস ডিলাররা।

সূত্রের খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে কতটা প্রভাব পড়েছে, মুখ্যমন্ত্রী 
তা সরাসরি জানতে চান। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে যে আচমকা সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতেই এই বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে এবং খাদ্য দফতরের সচিব-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক।

পশ্চিম এশিয়া ও আরব বিশ্বের সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। এর জেরেই বিভিন্ন দেশে জ্বালানির জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

রাজ্যেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গ্যাসের ভাণ্ডারে ইতিমধ্যে টান পড়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও গুরুতর না হয়, সেই লক্ষ্যেই আগেভাগে পদক্ষেপ করতে চাইছে নবান্ন। তাই বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে বুধবারই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ”সংকট কাটাতে আমরা বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নিলাম। ওঁদের (ডিলারদের) সঙ্গে আলোচনা করে যা জানলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বললাম, রাজ্যে যা গ্যাস মজুত আছে, তা আর বাইরে পাঠাবেন না। সমস্যা মিটে গেলে আবার সেটা করতে পারেন। একটা এসওপি বা নির্দেশাবলী তৈরি হবে। ওঁদের সঙ্গে কথা বলেই তা হবে। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্র, মিড ডে মিল, আইসিডিএস সেন্টারগুলিতে কোনও সংকট হবে না। বলা হয়েছে, সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে। আমাদের কথা ওঁরা মেনে নিয়েছেন।বৈঠক ভালো হয়েছে। অযথা কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আমি কাল (বৃহস্পতিবার) আবার জেলাগুলির সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করব।”

উল্লেখ্য, রাজ্যের দুর্গাপুর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখান থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও সরবরাহ করা হয়। আপাতত সেই গ্যাস বাইরে না পাঠানোর অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিনের বৈঠকে গ্যাস বুকিং নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের প্রসঙ্গও ওঠে। অনেকেই দাবি করেছিলেন, বুকিংয়ের জন্য ফোন করলেও সংস্থাগুলির তরফে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এই বিষয়ে ডিলাররা জানান, সার্ভারের সমস্যার কারণে গ্রাহকদের ফোন ধরতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটে গেলে স্বাভাবিকভাবেই আবার বুকিং প্রক্রিয়া চালু হবে।


Share